শহরে যৌথ অভিযানে কলাপাতা-মধুবন ম্যাংগোসহ পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ইফতার সামগ্রীসহ খাবার তৈরিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও ভেজালের চিত্র ধরা পড়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে পোড়া তেল ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় শহরের কয়েকটি জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টে ইফতার সামগ্রী প্রস্তুতের পরিবেশ দেখে হতবাক হয়ে যান অভিযানে থাকা কর্মকর্তারা।

অভিযানে দেখা যায়, অনেক রেস্টুরেন্টে একই তেল বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে পোড়ানো হয়েছে। এতে খাবারের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া অপরিষ্কার রান্নাঘর, ময়লা-আবর্জনার পাশে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণে অনিয়মসহ নানা অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির চিত্রও ধরা পড়ে। নোংরা পরিবেশ, ফ্রিজে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একত্রে রাখাসহ নানা অপরাধের দায়ে হবিগঞ্জ জেলা সদরের পাঁচটি অত্যাধিক জনপ্রিয় খাবারের দোকানকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন খাদ্য আদালত। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন খাদ্য আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহেদুল আলম। নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাকিব হোসাইন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আদালত জেলা শহরের কলাপাতা রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার, মধুবন ক্যাফে, মধুবন রেস্তুরা ও ম্যাংগো রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার করে এবং আদি গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাকিব হোসাইন জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্রিজে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একত্রে রাখা, নোংরা কাপড়ে ভাত ঢেকে রাখা, চা তৈরির দুধে মাছি, নোংরা ও মাছিযুক্ত পরিবেশে সবজি কাটা ও খাবার প্রস্তুত, নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, বিষ্ঠাযুক্ত ডিম সিদ্ধ, পোড়া তেল ও জিলাপিতে হাইড্রোজ ব্যবহার, রান্নাঘরের পাশেই উন্মুক্ত ময়লার ভাগাড় এবং বাসন ধোয়া ময়লা পানি পুকুরে ফেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫৩ ও ৩৯ ধারায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ না করার নির্দেশনা দেন। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, রমজান মাসে ইফতার সামগ্রীর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লাভের আশায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ভেজাল ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছেন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

তারা আরও জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে রেস্টুরেন্ট মালিকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ধরা পড়লে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে অভিযানের খবরে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রমজান মাসে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের এমন উদ্যোগ নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোথাও ভেজাল বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের ঘটনা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।


শেয়ার করুন