আজমিরীগঞ্জে ভুয়া রিপোর্ট-ভয়ভীতি প্রদান নিউ মেডিল্যাব হাসপাতাল ফের বিতর্কে

আজমিরীগঞ্জে একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে আবারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চরবাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অবস্থিত “আজমিরীগঞ্জ নিউ মেডিল্যাব হাসপাতাল”-এর বিরুদ্ধে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান, চিকিৎসায় অবহেলা এবং অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার শরীফনগর (২য় পাতায় দেখুন) (নতুনবাড়ী) এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ সাইফুর রহমান (কৌশিক) গত ২৬ মার্চ তারিখে তার অসুস্থ স্ত্রীকে উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগ নির্ণয়ের জন্য ইউরিন, রক্ত ও আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা নির্ধারণ করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ল্যাবে ইউরিন নমুনা জমা দেওয়ার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই রিপোর্ট প্রদান করা হয়, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অস্বাভাবিক। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসা গ্রহণের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। এতে সন্দেহের সৃষ্টি হলে পরদিন হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ফুটেজে ইউরিন পরীক্ষার কোনো কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই রিপোর্ট প্রস্তুত করার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালে তাকে উল্টো হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে “আজমিরীগঞ্জ নিউ মেডিল্যাব হাসপাতাল”-এর ম্যানেজারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি পরে জানানো হবে।” তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল একই হাসপাতালের বিরুদ্ধে এক রোগীর জরায়ু অপসারণ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঘটনার পরও নতুন করে অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে, ভুক্তভোগী সিভিল সার্জন, হবিগঞ্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অনিয়ম জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।


শেয়ার করুন