শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার এলাহী ট্রেডার্সের মালিক শওকত আলী জানান, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৭৯০ টাকায় কিনতে হয়। পরিবহন ও আনলোড খরচ যুক্ত হয়ে পাইকারি বিক্রি করতে হয় প্রায় ১ হাজার ৮৮০ টাকায়। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম দুই হাজার টাকার ওপরে চলে যাচ্ছে।
একই এলাকার আরেক ডিস্ট্রিবিউটর রহমান এলায়েন্সের ম্যানেজার বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডারের দাম ভিন্ন। বেক্সিমকো সিলিন্ডার পাইকারি বিক্রি হয় ২ হাজার ৫০ টাকা, ওমেরা ১ হাজার ৯৫০ টাকা এবং পেট্রোমেক্স ১ হাজার ৮৩০ টাকায়। কোম্পানি থেকেই বেশি দামে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে বাস্তবতা আরও কঠিন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। শহরের চৌধুরী বাজার, শায়েস্তানগর ও বাণিজ্যিক এলাকায় দেখা গেছে, অনেক দোকানে সিলিন্ডার মজুত থাকা সত্ত্বেও ‘সংকট’ দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও আবার সিলিন্ডার পেতে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ফরিদ মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, “গতকাল ওমেরা কোম্পানির সিলিন্ডার কিনেছি ২ হাজার ২৮০ টাকায়। দাম বেশি হলেও না কিনে উপায় ছিল না, বাসায় রান্না বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।” একই অভিযোগ করেন হাসান মিয়া। তিনি বলেন, “বেক্সিমকোর সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। এত বেশি দাম দিয়ে চলা খুব কষ্টকর।”
শুধু দামই নয়, সিলিন্ডার সরবরাহের অনিশ্চয়তাও ভোগান্তি বাড়িয়েছে। অনেক পরিবার জানায়, নির্ধারিত সময়েও সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। ফলে বিকল্প হিসেবে কাঠ বা কয়লা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
গৃহিণীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। শহরের এক গৃহিণী জানান, “প্রতিদিন রান্না করতে গিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়, গ্যাস কখন শেষ হয়ে যাবে। নতুন সিলিন্ডার আনতে গেলে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়, যা সংসারের বাজেটে বড় চাপ তৈরি করছে।”
হোটেল ও ছোট ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে হওয়ায় খাবারের দাম বাড়াতে হচ্ছে, ফলে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। এতে আয় কমে গিয়ে অনেকেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সচেতন মহল বলছে, বাজারে কার্যকর মনিটরিং ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে না। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
