জেলায় গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নিয়ন্ত্রণহীন অভিযানেও কমছে না মানুষের ভোগান্তি

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করেছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানার খবর মিললেও বাস্তব চিত্রে তেমন পরিবর্তন আসছে না। ফলে সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর বাজারে পরিচালিত এক অভিযানে এই চিত্রই আবার সামনে এসেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থের নেতৃত্বে, র‌্যাবের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে তোফাজ্জল স্টোরকে ২০ হাজার, সালাউদ্দিন ট্রেডার্সকে ৭ হাজার এবং রাজু  হার্ডওয়ারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা থাকলেও বাস্তবে জেলার অধিকাংশ বাজারে সেই দামের কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম যেখানে নির্ধারিত, সেখানে অনেক দোকানেই অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এই ব্যবধান আরও বেশি।

শায়েস্তাগঞ্জের এক গৃহিণী জানান, “প্রতিবার সিলিন্ডার কিনতে গেলে দোকানভেদে আলাদা দাম বলতে হয়। এক দোকানে যা, পাশের দোকানে তার চেয়ে ১০০ টাকা বেশি। বাধ্য হয়েই কিনতে হয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে নিয়মিত তদারকির অভাব এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সুযোগসন্ধানী মনোভাবের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দোকানে মূল্য তালিকা ঝুলানো থাকলেও তা মানা হয় না। আবার কোথাও কোথাও কোনো তালিকাই থাকে না। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, জরিমানার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে। তবে শুধু অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও তারা মনে করেন।

শুধু শায়েস্তাগঞ্জ নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা মাধবপুর, নবীগঞ্জ, বানিয়াচংসহ বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক গ্রামীণ এলাকায় সিলিন্ডার সরবরাহ কম থাকায় অতিরিক্ত দাম আদায় আরও সহজ হয়ে উঠেছে।

ভোক্তাদের দাবি, শুধু অভিযান নয়, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত দামের তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে এবং তা অমান্য করলে লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

গ্যাস সিলিন্ডার এখন শহর থেকে গ্রাম, সব জায়গায় রান্নার প্রধান জ্বালানি। এই খাতে অনিয়ম চলতে থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। তাই সাময়িক জরিমানা নয়, প্রয়োজন টেকসই ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।


শেয়ার করুন