খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মুড়াকড়ি ইউনিয়নের মুড়াকড়ি গ্রাম এবং বুল্লা ইউনিয়নের পূর্ব বুল্লা গ্রামের কয়েকটি পরিবার এখনো এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প ধরে রেখেছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৃৎশিল্পীরা মাটির গাছ, পাখি, ফুল, ফুলের টব, ফলমূলসহ বিভিন্ন ধরনের বাসনকোসন তৈরি করছেন। কেউ মাটি গুঁড়া করে কাদা করছেন, কেউ হাঁড়ি-পাতিল তৈরিতে ব্যস্ত, আবার কেউ তৈরি পণ্যে রঙতুলি দিয়ে নকশা করছেন। অনেকেই পণ্যগুলো রোদে শুকাচ্ছেন। এ কাজে তাদের পরিবারের ছেলেমেয়েরাও অংশ নিচ্ছে। এই শিল্পের প্রধান উপকরণ মাটি। মৃৎশিল্পীরা বিভিন্ন নদী থেকে মাটি সংগ্রহ করে চাকার সাহায্যে বিভিন্ন আকার দেন। এরপর সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করা হয়।
মৃৎশিল্পীরা জানান, বাসনকোসনের তুলনায় খেলনাসামগ্রীর চাহিদা বেশি। মেলা, ঈদ ও পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে এসব পণ্যের বিক্রি বাড়ে।
পূর্ব বুল্লা গ্রামের প্রবীণ মৃৎশিল্পী মাখন পাল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। এখন নিয়মিত করি না, জীবিকার জন্য কৃষিকাজ করি। তবে বৈশাখ এলে কিছু মাটির জিনিস বিক্রি হয়, তাই খেলনা তৈরি করছি।”
বাসন্তী রানী নামের আরেক মৃৎশিল্পী বলেন, “আগে মাটি কিনতে হতো না, এখন কিনতে হয় এবং দামও বেশি। সংসারের কাজের পাশাপাশি মাটির পাত্র বানাই। এতে ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারি।”
মুড়াকড়ি এলাকার এক মৃৎশিল্পী জানান, “প্রতিবারের মতো এবারও বৈশাখী মেলার জন্য হরিণ, গরু, ঘোড়া, হাতি, খরগোশ, উটপাখি, হাঁস, বক, টিয়া, গণ্ডারসহ নানা ধরনের খেলনা তৈরি করেছি। এখন সেগুলো শুকানো হচ্ছে, দু-এক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যাবে।”
প্রবীণ মৃৎশিল্পী সুশীল কুমার পাল বলেন, “৫০ বছর ধরে এই পেশায় আছি। বৈশাখ এলেই কাজের চাপ বাড়ে, তবে বছরের বাকি সময় খুব কষ্টে কাটাতে হয়। এজন্য অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।”
