দিনভর বিদ্যুৎহীন হবিগঞ্জ ॥ রাতে আবার লোডশেডিং ॥ স্থবির জনজীবন

উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে, এমন ঘোষণা দিয়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে সাড়ে ১০ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। কিন্তু স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ঘণ্টাখানেক যেতে না যেতেই রাত ৯টার দিকে আবারও পুরোনো চিত্রে ফিরে যায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি। শুরু হয় ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং, যা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।

এর আগে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃপক্ষ শহরে মাইকিং করে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টি জানায়। কিন্তু ঘোষণার তুলনায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ে গ্রাহকদের মধ্যে।

শুক্রবার সকাল থেকে সারাদিন হবিগঞ্জ শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে। অনেক দোকানপাট বাধ্য হয়ে আগেভাগেই বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পাঠদান ব্যাহত হয়। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে জুম্মার নামাজ আদায়ে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে, মসজিদগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় মুসল্লিদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর মোর্শেদ বলেন, “গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপকেন্দ্রে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালিত হচ্ছে। উন্নয়ন কাজের স্বার্থে সাময়িক এই অসুবিধা মেনে নেওয়ার জন্য গ্রাহকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হলেও প্রযুক্তিগত কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, জেলার মোট প্রায় ৬ লাখ গ্রাহকের মধ্যে শায়েস্তাগঞ্জ ও চুনারুঘাট, মাধবপুর, বানিয়াচংসহ কয়েকটি এলাকায় প্রায় এক লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ছিল। তবে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহকসহ জেলার ৯টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল দীর্ঘ সময়।

এদিকে সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরপরই আবার লোডশেডিং শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। অনেকেই অভিযোগ করেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় মেনে কাজ শেষ না করা এবং পরবর্তীতে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান উন্নয়ন কাজ শেষ হলে হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন হবে। বিশেষ করে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং ভোল্টেজ সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।



শেয়ার করুন