টমটম-অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ ॥ বাড়ছে দুর্ভোগ

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ধারণক্ষমতার চার গুণেরও বেশি অটোরিকশা ও টমটম চলাচল করায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক অবৈধ চার্জিং গ্যারেজ, যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত একযোগে হাজারেরও বেশি যানবাহন চার্জ দেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, রিকশার তুলনায় টমটমের ব্যাটারি বড় হওয়ায় বিদ্যুৎ খরচও বেশি হচ্ছে, যা সামগ্রিক লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। জানা যায়, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় সাধারণত ৪টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়, যার প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৮০ থেকে ১০০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। সে হিসেবে একটি রিকশা পূর্ণ চার্জ দিতে গড়ে ১.২ থেকে ১.৮ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে টমটমে ৫ থেকে ৬টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, যার প্রতিটির ধারণক্ষমতা ১২০ থেকে ১৫০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফলে একটি টমটম চার্জ দিতে ২.৫ থেকে ৪ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়। এতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, একটি টমটম চার্জে প্রায় দুই থেকে তিনটি রিকশার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে ওঠা অবৈধ চার্জিং গ্যারেজগুলোতে প্রতিদিন রাতভর ২০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত যানবাহন একসঙ্গে চার্জ দেয়া হচ্ছে। এসব গ্যারেজে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো বৈধ সংযোগ বা নির্দিষ্ট মিটারিং ব্যবস্থা নেই। অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি লাইন টেনে কিংবা অনিয়মিত সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায়ও তৈরি হচ্ছে অস্থিরতা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা করে এবং মাঝেমধ্যে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে গৃহস্থালি কাজে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, এই অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে এসব অবৈধ গ্যারেজ পরিচালিত হচ্ছে। মাস শেষে প্রতিটি গ্যারেজ থেকে কমিশন নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিষয়টি প্রকাশ্যে থাকলেও কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সচেতন মহল বলছে, শুধুমাত্র লোডশেডিং দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং অবৈধ চার্জিং গ্যারেজগুলো বন্ধ করে নিয়ন্ত্রিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং স্টেশন চালু করতে হবে। একই সঙ্গে স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থা চালু এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চার্জিং কার্যক্রম সীমাবদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টমটমের মতো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারির সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হলে হবিগঞ্জে লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।--বিকল্প কতগুলো শিরোণাম দিন



শেয়ার করুন