উপজেলার একাধিক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। শাহজাহানপুর ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন নামে এক কৃষক বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম এবার মেশিন দিয়ে দ্রুত ধান কেটে ফেলবো। কিন্তু ডিজেলই পাওয়া যাচ্ছে না। যেটুকু পাওয়া যায়, দাম এত বেশি যে চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। এখন শ্রমিক খুঁজতে গিয়ে দেখি, শ্রমিকের মজুরিও বেড়ে গেছে।”
আরেক কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, “ধান পেকে জমিতে পড়ে আছে। সময়মতো কাটতে না পারলে ঝড় বা বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আগে হারভেস্টার থাকায় এই ভয়টা কম ছিল, কিন্তু এখন আবার সেই পুরনো সমস্যায় পড়েছি।”
হারভেস্টার মেশিন মালিকদের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। শাহেদ মিয়া নামে এক মেশিন মালিক জানান, “একটি মেশিন চালাতে দিনে প্রচুর ডিজেল লাগে। আগে সহজেই ডিজেল পাওয়া যেত, এখন ঘুরে ঘুরে খুঁজতে হয়। অনেক সময় পাম্পে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ফলে মেশিন থাকলেও কাজ করতে পারছি না।”
স্থানীয় বাজার ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় কৃষি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজেল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু ধান কাটা নয়, সেচ কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। এতে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলার এক প্রবীণ কৃষক মতিউর রহমান বলেন, “এখন সময়মতো ধান কাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে ডিজেল নেই, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি জানান, কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের কৃষকরা দ্রুত কার্যকর সমাধান চান। তাদের দাবি, ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হলে এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
