আজমিরীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার না থাকায় ওয়ার্ড বয় লিখেন প্রেসক্রিপশন

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে এক ওয়ার্ড বয় রোগী দেখা, ব্যবস্থাপত্র লেখা ও ভর্তি করানোর মতো দায়িত্ব পালন করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগে প্রায়ই কোনো চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে ওয়ার্ড বয়ের কাছ থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুরুতর রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলেও চিকিৎসক না পেয়ে স্বজনদের অনেক সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বাসায় গিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুদরত আলী জানান, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মা জাহানারা বেগম অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক না থাকায় ওয়ার্ড বয় জুয়েল রায়ই রক্তচাপ মেপে ব্যবস্থাপত্র তৈরি করে হাসপাতালে ভর্তি দেন। তিনি আরও জানান, ভর্তি হওয়ার পর ওয়ার্ড বয়ের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নার্স চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে সরকারি ভাবে হাসপাতালে বিভিন্ন ওষুধ বরাদ্দ থাকলেও ‘নেক্সাম ৪০’ ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এখানে বর্তমানে ১০ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। তবে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়ায় জরুরি বিভাগ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, ওয়ার্ড বয়ের দায়িত্ব রোগী বহন ও সহায়তায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে তাকে প্রেসক্রিপশন লেখা ও রোগী ভর্তি করানোর মতো দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ওয়ার্ড বয়ের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আউটডোরে চিকিৎসক সবসময় থাকেন এবং তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে কোনো রোগী ভর্তি হলে চিকিৎসকদের অবগত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, রোগীর চাপ বেশি হলে চিকিৎসকরা হিমশিম খেলে ওয়ার্ড বয়রা কিছু সহায়তা করে থাকতে পারে, তবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।  তিনি দাবি করেন, গত দুই মাসে হাসপাতালে অনেক পরিবর্তন এসেছে।



শেয়ার করুন