মাধবপুর উপজেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনাই নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাটি পাচারকারী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে দেখা যায়, মাধবপুর উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের আদাঐর গ্রামের দক্ষিণ পাশে ফসিল জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়ন এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় সোনাই নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে পাশ্ববর্তী এলাকা, বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকা দিয়ে মাটি পাচার করা হচ্ছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। স্থানীয়দের মতে, নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবেশ ও কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত অবৈধ বাঁধ অপসারণ ও মাটি পাচার বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ফাতেমার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সোনাই নদীতে নির্মিত অবৈধ বাঁধটি ভেঙে ফেলা হয় এবং নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হয়। প্রশাসন জানায়, অবৈধভাবে মাটি পাচারের উদ্দেশ্যেই বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল, যা নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ পদক্ষেপে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ ফাতেমা জানান, এটি প্রথম নয়—এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সোনাই নদীর অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। বহমান নদীতে কোনো ধরনের বাঁধ দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযানের সময় কাউকে আটক করা না গেলেও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনাটি নিয়ে লাইভ হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
খবর বিভাগঃ
হবিগঞ্জ
