জমিতেই ধান রেখে বিক্রি করছেন কৃষকরা, লোকসানের মুখে আজমিরীগঞ্জের চাষিরা

আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নে ধান কাটার শ্রমিক সংকট ও পরিবহন সমস্যার কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাধ্য হয়ে অনেকেই জমিতে দাঁড়ানো ধানই কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন, ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় ধান কাটার শ্রমিকের তীব্র সংকট চলছে। যেসব শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, তাদের মজুরি অত্যধিক হওয়ায় অনেক কৃষকের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এক কেয়ার (প্রায় ২৮ শতাংশ) জমির ধান কাটতে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এছাড়া পরিবহনে আরও ১,৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং মাড়াই করতে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। সব মিলিয়ে ধান ঘরে তুলতেই খরচ দাঁড়াচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

কাকাইলছেও ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের কৃষক মমচাঁদ মিয়া জানান, তার দুই কেয়ার (৫৪ শতাংশ) বোরো ধানের জমি ছিল। শ্রমিক সংকট ও খরচের চাপে তিনি মাত্র ৬ হাজার টাকায় জমিতেই ধান বিক্রি করে দেন একই গ্রামের বরকত মিয়ার কাছে। তিনি বলেন, “শ্রমিক পাই না, ধান বাড়িতে নেওয়ার লোক নেই, আবার বাজারেও ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। তাই বাধ্য হয়ে জমিতেই ধান বিক্রি করে দিয়েছি।”

একই ইউনিয়নের কৃপালনগর গ্রামের শুবায়ের মিয়াও একই সমস্যার কথা জানান। তিনি প্রায় ২০ কেয়ার (প্রায় ৩ একর) জমির বোরো ধান ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। তার জমি কাকাইলছেও গ্রামের ফাডার হাওরে অবস্থিত।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, অনেক কৃষক ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে জমির ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে, যাদের নিজস্ব জনবল রয়েছে বা যারা পরিশ্রম করতে সক্ষম, তারা এসব জমি কিনে নিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্গাচাষীদের এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর জমির মালিক নিজে চাষ করলে খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ উঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত শ্রমিক সংকট নিরসন ও ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। না হলে কৃষকদের লোকসান আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


শেয়ার করুন