সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের ব্যস্ততম এই সড়কের দুই পাশেই সারি সারি অস্থায়ী দোকান, ফলের স্টল, চায়ের দোকান, ভ্রাম্যমাণ হকারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা চলছে। অনেক ক্ষেত্রে দোকানিরা তাদের পণ্য রাস্তার উপর পর্যন্ত ছড়িয়ে রাখছেন, ফলে সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে করে একদিকে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারীদের জন্য তৈরি হচ্ছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ সড়কে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। বিশেষ করে অফিস শুরু ও ছুটির সময়, স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসার সময় এবং সন্ধ্যায় বাজারের সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। রিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও ছোট-বড় যানবাহনের চাপে পুরো সড়ক প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।একাধিক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফুটপাত থাকলেও তা ব্যবহার করার সুযোগ নেই। দোকানপাট দখল করে রাখায় বাধ্য হয়ে রাস্তার মাঝ দিয়ে হাঁটতে হয়, যা খুবই বিপজ্জনক। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে।
যানবাহন চালকরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় একদিকে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে সামান্য অসাবধানতায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক সময় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে, যার ফলে সময় ও জ্বালানির অপচয় হচ্ছে।এদিকে, কিছু দোকানি দাবি করেন, জীবিকার তাগিদেই তারা এখানে ব্যবসা করছেন। তাদের মতে, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই সড়কের পাশে বসতে হচ্ছে। তবে সচেতন মহল বলছে, ব্যক্তিগত জীবিকার জন্য জনসাধারণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। অভিযান শেষ হলেই আবারও দখল শুরু হয়।এ পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তাদের মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা, নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের পুনর্বাসন এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও টেকসই উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তারা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর শহরের প্রধান সড়কে স্বস্তি ফিরে আসবে এবং জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাহিদ হোসেন বলেন, একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও অভিযান চালানো হবে।
