এরই মধ্যে নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, সুনামগঞ্জের শাল্লা থেকে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের কথা বলে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে কালনী নদী থেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদনের কপি দেখিয়ে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শাল্লা উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা। প্রতিবাদ জানালেও তা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শাল্লা উপজেলার বাসিন্দা লুৎফুর রহমান বলেন, “হবিগঞ্জের কাগজ দেখিয়ে আমাদের এলাকা থেকে বালু তোলা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন ভয়ভীতি দেখায় এবং জোর করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়।”
অন্যদিকে বালু উত্তোলনকারীদের দাবি, তারা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়েই নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করছেন।
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কালনী নদীর শঙ্কমহল এলাকায় ২৮১৮ দাগে বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার অংশে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরসিএন (জেভি)-এর স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য বিআইডব্লিওটিএ’র অনুমতি নিয়ে বৈধভাবেই বালু উত্তোলন করছি।”
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম বলেন, “উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জ অংশে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাসের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম সরফরাজ বলেন, “শাল্লা উপজেলার সীমানা থেকে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের শাল্লা ও দিরাই উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে ২০১৯ সালে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর আওতায় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৭৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শাল্লা থেকে আজমিরীগঞ্জের জলসুখা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে জন্মভূমি ও জন জেবি নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে বালু ভরাটের কাজ পায় কিশোরগঞ্জের আরসিএন (জেভি)।
এই প্রকল্পের কাজের জন্যই কালনী নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
