জেলায় বোরো ধানে বিপর্যয় ॥ পানিতে প্লাবিত কয়েক শতাধিক হেক্টর জমি

টানা বৃষ্টি ও উজানের পানির চাপে হবিগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে বোরো ধানের ওপর নেমে এসেছে নতুন শঙ্কা। জেলার ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর বোরো আবাদি জমির মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৮১ হেক্টর জমির ধান পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে করে কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বানিয়াচং উপজেলার হুগলি হাওড়ে। বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি ঢুকে পড়ায় অন্তত ৩০০ একর জমির আধা পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাঁধ দিয়ে দ্রুতগতিতে হাওড়ে পানি প্রবেশ করছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল পানির নিচে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হাওড়াঞ্চলের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। পানির প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে না পেরে হুগলি হাওড়ের বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে মুহূর্তেই পানি ঢুকে পড়ে ফসলি জমিতে, ডুবে যায় আধা পাকা বোরো ধান।

সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান জানান, হুগলি হাওড়ে প্রায় ৮০০ একর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ একর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টি ও পানির চাপ অব্যাহত থাকলে আশপাশের অন্যান্য হাওড়ও একই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, সারা বছরের জীবিকা নির্ভর করে এই বোরো ফসলের ওপর। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। হঠাৎ এমন দুর্যোগে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত বাঁধ মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা না পেলে তারা মারাত্মক সংকটে পড়বেন বলে জানান তারা।

এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে হাওড়াঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার ও কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।



শেয়ার করুন