গত দুদিনের টানা ভারী বৃষ্টির পানিতে বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন হাওরের পাকা ধান ডুবে গেছে।গত সোমবার ও মঙ্গলবারের ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার কয়েক হাওরে তলিয়ে গেছে ৯৭০ হেক্টর জমি। জ্বালানী সংকট,প্রতিকূল আবহাওয়া,পর্যাৃপ্ত শ্রমিক সংকট ও টানা বৃষ্টিতে চোখের সামনে এসব পাকা-আধা পাকা ধানি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে নেমেছে হাহাকার।স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে এবছর উপজেলাজুড়ে বোরো আবাদ হয়েছে ৩৩৭০৫ হেক্টর জমিতে।এর মধ্যে হাওরে আবাদ ১৭৯৯৪ হেক্টর।ও নন হাওর জুড়ে বোরো আবাদ হয়েছে ১৫৭২১ হেক্টর জমি।এ পর্যেন্ত হাওরের ১১২০০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। দু,দিনের ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে ৯৭০ হেক্টর জমির পাঁকা ধান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বানিয়াচংয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পানির চাপে উপজেলার ১৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়নের তেলিগাই ও সুজাতপুরের বাধিয়ারা বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন,মঙ্গলবার পর্যগন্ত উপজেলার হাওরের ৬২.৬ ভাগ জমির ধান কাঁটা হয়েছে।আরো প্রায় ৩৮ ভাগ জমির ধানা কাটা এখনো বাকী রয়েছে।এর মধ্যে দু,দিনের বৃষ্টিতে ই প্লাবিত হয়েছে ৯৭০ হেক্টর জমির পাকা আধা পাকা বোরো ধান। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,অতি বৃষ্টির কারনে উপজেলার ছোট বড় প্রায় ৫/৬ টি হাওরের ধান তলিয়ে গেছে।খাল দখল এবং ছোট ছোট খাল ভরাট হওয়ার কারনে পানি নামার বা নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমের শুরুর দিকের বৃষ্টির পানি জমে ভাটির দিকের হাওর শুরুতে ই তলিয়ে যায়। বানিয়াচং উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলেন,বৈরী আবহাওয়া এবং সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষকরা মাঠে আছেন। চেষ্টা করছেন ধান ঘরে তোলার জন্য। আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ, ও সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু গত দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমির ধান ডুবে গেছে।
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী বলেন,ধান কাটার হারভেষ্টার মেশিনের জ্বালানি সংকট নাই।জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষকদের ফুয়েল কার্ড দেয়া হয়েছে।উপজেলার কৃষকদের সমস্য নিরসনে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
খবর বিভাগঃ
হবিগঞ্জ
