বরখাস্তের পরও প্রতারণার মাধ্যমে চেয়ারম্যান পদ দখলের চেষ্টায় নাসির উদ্দিন চৌধুর

বানিয়াচং উপজেলার ১৫নং পৈলারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নতুন করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। বরখাস্তের পরও তিনি ক্ষমতা ফিরে পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম ভাঙিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুবর্ণা রাণী দাশ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাময়িক বরখাস্ত থাকা সত্ত্বেও মোঃ নাসির উদ্দিন চৌধুরী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি ইউপি সচিবকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইউএনও’র নির্দেশনার কথা বলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছ থেকে একটি দায়িত্ব হস্তান্তর সংক্রান্ত কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুবর্ণা রাণী দাশ আরও জানান, “ইউএনও’র কথা বলে তারা আমার কাছে আসে এবং একটি কাগজে স্বাক্ষর নিতে সক্ষম হয়। পরে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে বুঝতে পারি, এটি প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে।” তিনি এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এর আগেও মোঃ নাসির উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নাগরিকদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রথমে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। পরে তিনি নোটিশ পাননি এবং তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই দাবি করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে পুনরায় তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) ধারার (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বরখাস্ত হওয়ার পরও তিনি থেমে নেই। তার বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। নাসির উদ্দিন চৌধুরী মিথ্যা দাবি করে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে মানহানি করছেন। তিনি বিভিন্নভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


শেয়ার করুন