হবিগঞ্জের হাওরে ধান কাটা শুরু ॥ ডিজেল সঙ্কট ॥ বন্যার শংকায় দুশ্চিন্তায় কৃষক

হবিগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কাটা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে কষ্টের পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।  ডিজেলের স্বল্পতা, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা, সব মিলিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে তাদের মধ্যে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সময়মতো ফসল ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। জেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে হবিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক পরিসরে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের ধান চাষ হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে সন্তোষজনক মাত্রায়।

জেলার ছোট-বড় অসংখ্য বিল-হাওরের অধিকাংশেই ইতোমধ্যে ধান পাকতে শুরু করেছে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও এখন পানি নামতে শুরু করেছে। মে মাসের শেষ নাগাদ ধান কাটা শেষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর ধান কাটার জন্য কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার মেশিন ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। আগে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক এলেও বর্তমানে মেশিননির্ভরতা বাড়ায় শ্রমিক সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

হাওরের এক কৃষক বলেন, ‘আমার ১০-১২ একর জমিতে ভালো ধান হয়েছে। আগে বাইরে থেকে শ্রমিক পাওয়া যেত, এখন পাওয়া যাচ্ছে না। যারা আছেন তারা বেশি মজুরি চাচ্ছেন। শিলাবৃষ্টি হলে সব শেষ হয়ে যাবে।’

আরেক কৃষক বলেন, ‘ধান কাটার সময় শ্রমিক না পাওয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা। অনেক জায়গায় খোঁজ নিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে পাহাড়ি ঢল বা শিলাবৃষ্টির ভয় তো আছেই।’ শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক কম্বাইন্ড হারভেস্টার ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এসব মেশিন চালাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন হওয়ায় জ্বালানি সংকট নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে কয়েকজন কৃষক কৃষি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

সরেজমিন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ৫০ শতাংশ আবার কোথাও ৬০ শতাংশ ধান পেকেছে। অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে ধান শুকানো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। এতে ধানের গুণগত মান নষ্ট হয়ে বাজারদর কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ‘এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মাঠের ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই দ্রুত কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বোরো ফসল রক্ষায় হাওর রক্ষা বাঁধগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।


শেয়ার করুন