কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জেলায় সক্রিয় গরুচোর চক্র

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে গরু চুরির ঘটনা। একের পর এক খামার ও গৃহস্থের গোয়ালঘরে হানা দিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্র গরু নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন রাত জেগে গরু পাহারা দিচ্ছেন খামারিরা। অনেকেই গোয়ালের পাশে অবস্থান করে রাত কাটাচ্ছেন। তারপরও থামছে না চুরির ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্র পিকআপ কিংবা ছোট ট্রাক নিয়ে এসে প্রথমে এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে সুযোগ বুঝে গোয়ালঘরের তালা বা চেইন কেটে গরু নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার এক ক্ষুদ্র খামারি জানান, কোরবানির বাজারকে সামনে রেখে তিনি কয়েকটি ষাঁড় লালন-পালন করেছিলেন। কিন্তু গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে একটি গরু চুরি হয়ে যায়। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

নবীগঞ্জ উপজেলার এক গৃহস্থ বলেন, কয়েক বছর ধরে গরু পালন করে সংসারের বাড়তি আয় করছিলাম। এখন চোরের আতঙ্কে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না।

খামারিরা জানান, দেশীয় গরুর চাহিদা বাড়ায় জেলার অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক, প্রবাসফেরত তরুণ ও নিম্ন আয়ের পরিবার ঋণ নিয়ে ছোট ছোট খামার গড়ে তুলেছেন। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত থাকলেও সাম্প্রতিক চুরির ঘটনায় তাদের স্বপ্নে ধাক্কা লেগেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও অধিকাংশ ঘটনায় চুরি হওয়া গরু উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চোরদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, গরু চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন কয়েকটি চক্রকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।


শেয়ার করুন