অলিপুর বাজারে সড়ক সংস্কারের নামে চরম ভোগান্তি ॥ ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ১১নং ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের অলিপুর বাজার সংলগ্ন হাইওয়ে সড়ক সংস্কার কাজ এখন স্থানীয়দের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিতভাবে সড়ক উঁচু করায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাজার ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী, পথচারী, যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের সময় পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি নামতে না পেরে বাজারের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। বিশেষ করে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই বাজার এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শামীম আহমেদ নাসির। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সড়কটি প্রায় ৬ থেকে ৭ ফুট উঁচু করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন কিংবা কালভার্ট নির্মাণ করা হয়নি। ফলে পুরো অলিপুর বাজার এখন স্থায়ী জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগে সামান্য বৃষ্টি হলেও দ্রুত পানি নেমে যেত। কিন্তু সড়ক উঁচু করার পর বাজারটি নিচু এলাকায় পরিণত হয়েছে। এখন বৃষ্টির পানি দোকানে ঢুকে মালামাল নষ্ট হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী প্রতিদিন ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দোকানের সামনে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করেছেন। তবুও মিলছে না স্বস্তি।

পথচারীদের অভিযোগ, বাজার এলাকায় চলাচল এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাদা ও পানির কারণে ছোট যানবাহন চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও নারীসহ সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও যদি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়ে, তবে সেই উন্নয়ন জনগণের কোনো কাজে আসে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা, তদারকির অভাব ও অপরিকল্পিত কাজের কারণেই অলিপুর বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, বাজার এলাকার সংযোগ সড়ক সমতলকরণ এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলেও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।



শেয়ার করুন