হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক সচিব কুমার আইন অবশেষে বদলি হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তাকে রাঙ্গামাটি জেলায় বদলি করা হয়েছে। ২০২৪ সালে হবিগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে অফিসের ডাটা অপারেটর লতিফাকে সঙ্গে নিয়ে দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মার্কা ছাড়া পাসপোর্ট আবেদন জমা না নেয়া, সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল।
এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে অফিসের ডাটা অপারেটর লতিফাসহ আরও দুই কর্মচারী এবং কয়েকজন দালালকে আটক করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর লতিফা জামিনে মুক্তি পান।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে বিভিন্ন অনিয়ম ও দালালচক্রের সঙ্গে সচিব কুমার আইনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় অবশেষে তাকে রাঙ্গামাটিতে বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলেই তিনি নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে হবিগঞ্জ ত্যাগ করেন।
এদিকে, হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নতুন সহকারী পরিচালক আগামী রবিবার যোগদান করতে পারেন বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, নতুন কর্মকর্তার মাধ্যমে অফিসের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দালাল নির্ভর কার্যক্রম বন্ধ হবে এবং সেবার মান ফিরে আসবে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সেনাবাহিনীর অভিযানের পর কিছুদিন দালালচক্রের তৎপরতা কমে গেলেও বর্তমানে তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ করা হয় না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আব্বাস আলী নামের এক আনসার সদস্যের মাধ্যমে আবেদনপত্র জমা নেয়া হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট কিছু ট্রাভেলসের মাধ্যমে ‘মার্কা’ সংগ্রহ না করলে নানা অজুহাতে আবেদন ফেরত দেয়া হয়। বিশেষ করে আবেদনপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবা প্রত্যাশীরা। এ অবস্থায় পাসপোর্ট অফিসে দালালচক্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
