রিচি তহশিল অফিসে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বন্ধ থাকে সকল অনলাইন কার্যক্রম

“সকাল থেকে বসে আছি, এখনও কাজ হয়নি। বিদ্যুৎ নেই বলে কম্পিউটার চালু করা যাচ্ছে না।” ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি ইউনিয়নের এক ভূমিসেবাগ্রহীতা। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, নামজারি সংক্রান্ত কাগজপত্র কিংবা বিভিন্ন সনদ সংগ্রহ করতে এসে প্রায় প্রতিদিনই এমন দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হবিগঞ্জ দর উপজেলার রিচি ইউনিয়ন তহশিল অফিসে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অফিসটিতে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ থাকলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাবে থমকে যাচ্ছে সরকারি সেবা কার্যক্রম। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই অফিস প্রাঙ্গণে নানা বয়সী মানুষের ভিড়। কেউ খাজনা দিতে এসেছেন, কেউ ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র তুলতে, আবার কেউ নামজারির খোঁজ নিতে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে সেবাগ্রহীতাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস হওয়া সত্ত্বেও এখানে এখনো আধুনিক ও স্থায়ী বিদ্যুৎ ব্যাকআপ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। এতে প্রতিদিনই জনদুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনেকেই পরিবহন খরচ ও সময় নষ্ট করে এসে সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

রিচি ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “বর্তমানে প্রায় সব সরকারি সেবাই অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে কোনো কাজই করা যায় না। ফলে সাধারণ মানুষকে অযথা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

তহশিল অফিস সূত্রে জানা গেছে, অফিসের অধিকাংশ কাজ এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। খাজনা আদায়, তথ্য যাচাই, অনলাইন রেকর্ড সংরক্ষণসহ নানা কাজে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে এসব কার্যক্রম প্রায়ই স্থবির হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে রিচি ইউনিয়নের তহশিলদার দিদারুল ইসলাম বলেন, “পল্লী বিদ্যুতের সমস্যার কারণে অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একটি আইপিএস বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলে সেবার মান অনেকটা ত্বরান্বিত হতো। মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো না।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত তহশিল অফিসে শক্তিশালী আইপিএস, সোলার ব্যাকআপ অথবা জেনারেটরের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভূমি অফিসে সেবার মান বাড়াতে শুধু ডিজিটালাইজেশনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও কার্যকর অবকাঠামো। তা না হলে ডিজিটাল সেবার সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন সাধারণ মানুষই।


শেয়ার করুন