আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে তীব্র চিকিৎসক সংকট। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় দেড় লাখের বেশি মানুষ কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলায় মোট ৬টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ২২ জন এমবিবিএস চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন চিকিৎসক ও কনসালট্যান্ট। এছাড়া হাসপাতালে নেই প্রয়োজনীয় আয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে বিকল রয়েছে এক্স-রে মেশিন। জলসুখা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একমাত্র এমবিবিএস চিকিৎসকের পদটি প্রায় দুই বছর ধরে শূন্য রয়েছে। মিডওয়াইফ পদে একজন থাকলেও বাকি পাঁচটি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। একই অবস্থা কাকাইলছেও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রেও। সেখানে তিন বছর ধরে এমবিবিএস চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে এবং অন্যান্য পদেও নেই পর্যাপ্ত জনবল। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেইন জানান, “কাকাইলছেও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু রাখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সপ্তাহে দুই দিন সেফমো পদে একজন কর্মীকে পাঠানো হয়।” এদিকে শিবপাশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং বদলপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও একমাত্র এমবিবিএস চিকিৎসকের পদ প্রায় দুই বছর ধরে শূন্য রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের সামান্য চিকিৎসার জন্যও উপজেলা কিংবা জেলা সদরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেইন বলেন, “শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি।”
খবর বিভাগঃ
হবিগঞ্জ
