স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “বাচ্চার জন্য লিচু কিনেছিলাম। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই ওর বমি শুরু হয়। পরে ডাক্তারের কাছে নিতে হয়েছে।”
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতেই দ্রুত লাভের আশায় অনেক বিক্রেতা অপরিপক্ক লিচু বাজারে আনছেন। এসব লিচু দ্রুত পাকানোর জন্য বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
একজন চিকিৎসক জানান, “অপরিপক্ক লিচুতে প্রাকৃতিকভাবে কিছু বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে। এর সঙ্গে যদি কেমিক্যাল মেশানো হয়, তাহলে তা শিশু ও বয়স্কদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।”
বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক লিচু অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল রঙের। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ স্বীকার করেছেন, দ্রুত বিক্রির জন্য আগাম লিচু সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে কেমিক্যাল ব্যবহারের বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় এমন অনিয়ম বাড়ছে। তারা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, শুধু প্রশাসনের তৎপরতা নয়, ভোক্তাদেরও সতর্ক হতে হবে। লিচু কেনার সময় অতিরিক্ত উজ্জ্বল রঙ বা অস্বাভাবিক বড় আকারের ফল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি।
গ্রীষ্মের জনপ্রিয় এই ফল যেন আনন্দের বদলে অসুস্থতার কারণ না হয় সেজন্য এখনই প্রয়োজন সচেতনতা ও কার্যকর নজরদারি।
