সরেজমিনে জানা যায়, বন্যার আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তুলতে মরিয়া কৃষকদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করছে হারভেস্টার মালিকরা। সরকারিভাবে ভর্তুকি দিয়ে কেনা এসব যন্ত্র দিয়েই এলাকায় অস্বাভাবিক হারে টাকা আদায় করা হচ্ছে। কৃষকদের ভাষায়, এই বাড়তি টাকা আদায় যেন তাদের গলায় অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারি রেট সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলামও এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে, কৃষি বিভাগ নিজেই যদি নির্ধারিত হার সম্পর্কে অবগত না থাকে, তবে কৃষকের অধিকার রক্ষা হবে কীভাবে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রতি কানি ধান কাটার সরকারি হার ১ হাজার ৭৫০ টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফারিয়া আলম বলেন, “সরকারি নির্ধারিত হারের বেশি টাকা আদায় করলে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ দিতে হবে।”
কৃষকদের দাবি, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকির অভাবেই হারভেস্টার মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বন্যার এই সংকটময় পরিস্থিতিতে লিখিত অভিযোগ করার মতো সময় বা মানসিক প্রস্তুতি তাদের নেই।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি নির্দেশনা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত মাঠে বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী হারভেস্টার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
