সাতছড়ি উদ্যানে সেগুনগাছ চুরি মামলা দায়ের ॥ তদন্তে বন বিভাগ

চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে মূল্যবান সেগুনগাছ চুরির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে গাছ কাটার ঘটনা প্রকাশের পরই বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৮ মে) দুপুরে মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মির্জা মেহেদী সারওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সাতছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, বন প্রহরী এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনে উদ্যানের ডুমুরতলা এলাকায় কাটা দুটি বড় সেগুনগাছের গোড়া পাওয়া যায়। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি স্থানে পুরোনো গাছ কাটার চিহ্নও শনাক্ত করা হয়েছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান। সহকারী বন সংরক্ষক মির্জা মেহেদী সারওয়ার বলেন, ঘটনাস্থলে গাছ কাটার সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে পুরো এলাকা এখনো পুরোপুরি পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, ডুমুরতলা এলাকায় দুটি সেগুনগাছ কাটার প্রমাণ নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি কিছু স্থানে পুরোনো গাছ কাটার চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার কিছু বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা হতে পারে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে রাতের আঁধারে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায়। গত ৮ মে সরেজমিনে ডুমুরতলা এলাকায় গিয়ে শতবর্ষী দুটি সেগুনগাছের কাটা গোড়া এবং বনের বিভিন্ন অংশে গাছ কাটার আলামত পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বনের ভেতরে অবৈধভাবে গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, “বনের ভেতরে আরও অনেক কাটা গাছের গোড়া আছে, আগেও একাধিকবার গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।” তবে স্থানীয়দের দাবি, এ ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিবেশবাদী নেতা তোফাজ্জল সোহেল বলেন, বড় গাছ কেটে নেওয়ার ফলে শুধু বনভূমির ক্ষতিই নয়, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাতছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, “দুটি সেগুনগাছ চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে কিছু তথ্য পেয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।” চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



শেয়ার করুন