বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে তারা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। ২০১৮ সালের পর থেকে দেউন্দি কোম্পানির আওতাধীন চারটি বাগান কোনো ব্যাংক ঋণ পায়নি। নোয়াপাড়া চা বাগানে অর্থাভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে প্রায় তিন বছর কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এছাড়া লালচান চা বাগানের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবছর লোকসান গুনতে হচ্ছে বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের। নোয়াপাড়া চা বাগানের ইউপি সদস্য বাবুল রেলী বলেন, “চারটি বাগানেই দীর্ঘদিন ধরে সংকট চলছে। শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো পাচ্ছেন না। তাই তারা কর্মবিরতিতে গেছেন।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানতে পেরে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম শ্রমিক ও বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবারের বৈঠকে সাময়িক সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন, “২০২২ সাল থেকে মালিকপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
এ বিষয়ে নোয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার সোহাগ মাহমুদ বলেন, “টানা লোকসানের কারণে চারটি বাগান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। সংকটের সময় আমরা আংশিক বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু শ্রমিকরা তা গ্রহণ করেননি। প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনা চলছে। আশা করছি দ্রুত সংকটের সমাধান হবে।”
