শিক্ষার্থী কম, শিক্ষক বেশি; সংকটে বড় বিদ্যালয়গুলো

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি হিসাবে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১০০ জন। তবে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, নিয়মিত উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ জনেরও কম। অন্যদিকে একই উপজেলার শিমুলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৫ জন। ফলে শিক্ষক বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ২২ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২০ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ২২ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১৪ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে বালক ৫১ জন ও বালিকা ৪৯ জন। বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক ছাড়া বাকি সবাই নারী শিক্ষক।

১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী এ বিদ্যালয়ে দুটি ভবন ও প্রায় ৩৬ শতক জমি রয়েছে। তবে শিক্ষার্থী উপস্থিতির চিত্র নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল আলম খান বলেন, “হরিশ্যামা গ্রামে আরও দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। একই এলাকায় একাধিক বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর শিক্ষার্থী কিছুটা বেড়েছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীসংখ্যার তুলনায় হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বেশি থাকলেও উপজেলার অনেক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে শিমুলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ৫ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অতিরিক্ত শিক্ষক চেয়ে বারবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নতুন শিক্ষক পদায়ন হয়নি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত বিবেচনায় শিক্ষক পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত জরুরি। যেখানে শিক্ষার্থী কম, সেখানে অতিরিক্ত শিক্ষক রেখে এবং অধিক শিক্ষার্থীসমৃদ্ধ বিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষক সংকটে ফেলে রাখলে শিক্ষার গুণগত মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত জনবল বৃদ্ধি করা হলে শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত শিক্ষা সেবা পাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, “চাইলেই যখন-তখন এক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে নির্ধারিত নিয়ম-কানুন রয়েছে। সেগুলোর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।”

তবে শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষার্থী সংখ্যা, উপস্থিতি ও শিক্ষক চাহিদা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে


শেয়ার করুন