শহরে ড্রেন নির্মাণের পরও মিলছে না সুফল ভারী বৃষ্টিতে সড়ক-ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতা

হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাষনের ড্রেন ভরাট করে রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাসা-বাড়িসহ সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি নিষ্কাশন ড্রেন থাকলেও তা তুলনায় প্রায় তিন ফুট উঁচুতে। এটিও পানি নিষ্কাষনের আরেকটি প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছেন অনেকে। নির্মিত ড্রেনে পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা থাকলেও পানি ভারী বর্ষণ হলে পানি নিষ্কাষনে দেরি হয়। ফলে উল্টো সড়কেই জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালের কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ শহরের  বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর মধ্যে শায়েস্তানগর এলাকা অন্যতম। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। বৃষ্টির পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পুরো শহরের জনজীবন। তবে পানি নিষ্কাষনে দেরি হলেও ড্রেনটি উচুঁ হওয়ায় হাটাচলায় সুবিধা হয়েছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

গতকাল দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত কয়েক দফা ভারী বর্ষণে শহরের অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে সার্কিট হাউস রোড, শায়েস্তানগর, কালীবাড়ী ক্রস রোড, শ্যামলী ও ঘাটিয়াবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক স্থানে রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষকে পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই একইভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক দোকানে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এদিকে বৃষ্টিপাতের কারণে খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানিও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা জানায়, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেই শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এছাড়া বাসা-বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এটিও পানি নিষ্কাষণ না হওয়ার অন্যতম কারণ। তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

হবিগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল বলেন, জলাবদ্ধতা হবিগঞ্জের একটি পুরোনো সমস্যা, যা এখন অভিশাপে পরিণত হয়েছে। শায়েস্তানগর এলাকায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ড্রেন রাস্তার তুলনায় উঁচু হওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আপনি পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলুন। এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাব্বির আহমেদ তালুকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি


শেয়ার করুন