প্রথম আদেশে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তালিকা ৭ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর আদেশে হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপদ পাঠদান নিশ্চিত করতে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৭ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, একই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি তথ্যমতে, বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ১০০ জন। এর মধ্যে শিশু শ্রেণিতে ২২ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২০ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ২২ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১৪ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে বালক ৫১ জন ও বালিকা ৪৯ জন। বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন।
তবে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, নিয়মিত উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ জনেরও কম। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীসংখ্যার তুলনায় শিক্ষক বেশি থাকার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে উপজেলার শিমুলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ৫ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত শিক্ষক চেয়ে একাধিকবার আবেদন করা হলেও সেখানে নতুন শিক্ষক পদায়ন হয়নি।
১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি ভবন ও প্রায় ৩৬ শতক জমি রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল আলম খান বলেন, “হরিশ্যামা গ্রামে আরও দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। একই এলাকায় একাধিক বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর শিক্ষার্থী কিছুটা বেড়েছে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকলেও শিক্ষার্থী কম এমন বিদ্যালয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ফলে শিক্ষক বণ্টনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস করা না হলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা শিক্ষার্থীর প্রকৃত উপস্থিতি যাচাই এবং শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, “চাইলেই এক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে নির্ধারিত নিয়ম-কানুন রয়েছে। সেগুলোর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
তবে শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষার্থী সংখ্যা, উপস্থিতি এবং শিক্ষক চাহিদা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। আদালতের নির্দেশনার পর বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শিক্ষক বণ্টন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
