দালালের মাধ্যমে দ্রুত পাসপোর্ট সেবা, সাধারণ আবেদনকারীদের ভোগান্তি

হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট আবেদন জমা দিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে দ্রুত ও সহজে সেবা মিললেও সাধারণ আবেদনকারীদের নানা অজুহাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে বাহুবল উপজেলার ওলিপুর এলাকার বাসিন্দা নাইম নামে এক তরুণ পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যান। অভিযোগ রয়েছে, কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তার আবেদনপত্র গ্রহণে আপত্তি জানান। ‘রাস্তা ব্লক সেক্টর’– সংক্রান্ত জটিলতার কথা বলে তার ফাইল আটকে রাখা হয়। নাইম বলেন, আমার দেওয়া ঠিকানা ও তথ্যের মতো একই ধরনের অনেক আবেদন নিয়মিত গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে সমস্যা দেখিয়ে আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। একাধিকবার বিষয়টি বুঝিয়ে বললেও কোনো সমাধান পাইনি। এতে আমাকে অকারণে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার অভিযোগ, অফিসে সক্রিয় একটি দালালচক্র রয়েছে। তাদের মাধ্যমে গেলে সহজেই কাজ সম্পন্ন করা যায়, অথচ নিজে আবেদন করতে গেলে বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা কয়েকজন আবেদনকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আবেদনপত্র সংশোধন, তথ্য যাচাই কিংবা ফাইল গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালের শরণাপন্ন হন। ভুক্তভোগী নাইমের দাবি, আবেদন জমা না নেওয়ায় তিনি পরে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় করে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে সক্ষম হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ববর্তী কর্মকর্তার সময়ে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়ায় হয়রানি ও দালালনির্ভরতা অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে হবিগঞ্জে নতুন পরিচালক নুরুল হুদা দায়িত্ব গ্রহণের পর আবারও আবেদনকারীদের হয়রানি এবং টোকেনের নামে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ফলে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে দাবি তাদের। চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা মিজানুর রহমান নামে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, পাসপোর্ট আবেদনের কাগজে বিশেষ কোনো সাংকেতিক বা গোপন চিহ্ন থাকলে ফাইল দ্রুত ও নির্বিঘ্নে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এমন কোনো চিহ্ন না থাকলে নানা অজুহাতে আবেদনকারীদের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তিনি দাবি করেন, এ কারণে অনেক সাধারণ আবেদনকারী বাধ্য হয়ে দালালদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক নুরুল হুদার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা পাসপোর্ট অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সাধারণ আবেদনকারীদের হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



শেয়ার করুন