সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাদাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে গর্তগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পথচারী ও যানবাহন চালকদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচলে প্রায়ই বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, বৃদ্ধ ও রোগীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এস এম মামুন বলেন, “বছরের পর বছর ধরে অনেক রাস্তা সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা ও পানিতে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
সিএনজি চালক রনি আহমেদ বলেন, “প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে এসব সড়কে চলাচল করতে হয়। রাস্তার গর্তের কারণে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়, যা চালক ও যাত্রী—উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক।”
শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ বলেন, “স্কুল-কলেজে যাতায়াতের সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। অনেক সময় সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।”
তবে স্থানীয়রা জানান, হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন দায়িত্ব গ্রহণের পর উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে কিছু সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কয়েকটি সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। তবে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক এখনও সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বেহাল সড়কগুলোও দ্রুত সংস্কারের আওতায় আনা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুহেল হোসেন বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া যেসব সড়কে জরুরি মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
সচেতন মহল মনে করছে, বানিয়াচংয়ের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি ও দ্রুত সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দারা জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
