চুনারুঘাটে পাকা কাঁঠালের ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠেছে জনপদ

চুনারুঘাট উপজেলার পাহাড়ি জনপদে জাতীয় ফল পাকা কাঁঠালের ঘ্রাণে মুখরিত হয়ে উঠেছে জনপদ। মৌসুম শুরুর সাথে সাথে বাজারে উঠেছে পাহাড়ি কাঁঠাল। যা ঘিরে স্থানীয় বাজারগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক বেচা-কেনা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বসছে অস্থায়ী হাট। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে সাধারণত কাঁঠালের মৌসুম শুরু হয়। কিন্তু এ বছর বৈশাখের শেষ দিক থেকেই পাহাড়ি এলাকায় কাঁঠাল পাকতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উপজেলার চন্ডি মাজার সংলগ্ন পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে প্রতিদিন বসছে পাহাড়ি কাঁঠালের সবচেয়ে বড় অস্থায়ী

হাট। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররা এসব হাট থেকে কাঁঠাল কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন। বিক্রেতারা জসিম আহমেদ জানান, পাহাড়ি এলাকার কাঁঠাল স্বাদ ও গুণগত মানে উন্নত হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। স্থানীয় বাজারে পাকা কাঁঠালের পাশাপাশি কাঁচা কাঁঠালও ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই তরকারি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাঁচা কাঁঠাল কিনছেন। চুনারুঘাটের বিভিন্ন সড়কের পাশের গাছে ঝুলে থাকা কাঁঠাল এখন পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলের কোষ ও বীজ যেমন মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তেমনি এর চামড়া গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফলে কাঁঠালের কোনো অংশই অপচয় হয় না।

চন্ডিছড়া চা-বাগানের ব্যবসায়ী বিজন কুমার জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে কাঁঠাল রপ্তানিও করা হচ্ছে। এ কারণে প্রতি বছরই কাঁঠালের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার রনি আহমেদ জানান, পাহাড়ি এলাকায় আগাম কাঁঠাল উৎপাদনের কারণে চুনারুঘাটের কাঁঠাল জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের কাঁঠাল চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।



শেয়ার করুন