নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের বাজখাসারা এলাকায় বড় দুটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় স্থানীয়দের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ভাঙনের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বাঙ্গারপুল এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজারের পাইপের মাধ্যমে উত্তোলিত বালু নির্ধারিত স্থানে ফেলা হচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের দাপটে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে টুঁ শব্দ করার সাহস পান না। এভাবে প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকায় ভূমিধসের আতঙ্ক বাড়ছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খননের ফলে সৃষ্টি হওয়া গভীর গর্তের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে যত্রতত্র ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করলে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিতে পারে। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যেতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে কুর্শি ইউনিয়নের একটি বৃহৎ জনপদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজার মেশিন জব্দ করতে হবে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে নদীতীরবর্তী সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত এ ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করে জনজীবন ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। সম্ভবত তারা অনুমতি নিয়েছে। অনুমতি নিয়ে বালু উত্তোলন করছে কি না, তা যাচাই করতে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে যাব। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
খবর বিভাগঃ
হবিগঞ্জ
