স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সাল থেকে মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি বাগান সংলগ্ন প্রায় ১০ একর জমির মালিক ও ছিলেন। তিনি কখনো বাগানের ভিতরে কোন জায়গা আছে বলে দাবী করেননি। বর্তমানে বিএনপির ক্ষমতা অপব্যবহার করে রফিকুল ইসলাম তার বাহিনি নিয়ে বাগানের ভূমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রফিকুল ইসলাম অন্যায় ও জোর পূর্বক ভাবে জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছে। তিনি বাগানের সীমানার ভেতরেও জমি রয়েছে বলে দাবি করছেন অগ্রনযোগ্য।
এদিকে, চা শ্রমিকদের অভিযোগ, রফিকুল ইসলামের লোকজন বাগান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এতে শ্রমিকদের জীবিকা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাগান বন্ধ হয়ে গেলে শত শত শ্রমিক ও তাদের পরিবার মানবেতর অবস্থার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ দাবিতে শ্রমিকরা মানববন্ধনও করেছেন।
অন্যদিকে, মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ (৭৯) ২০২১ সালের ২৫ মার্চ হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে অপহরণ করা হয় এবং অস্ত্রের মুখে অসংখ্য সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও টিপসই নেয় রফিকুল ইসলাম, দলিল লেখক মানিক মিয়াসহ ৭ জন, দলিল সৃজন করার সময় একজন অপরিচিত লোক ছিল, পরে জানতে পারেন তিনি না কি সাব রেজিস্ট্রারের কমিশন ছিল। পরে সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে তার ১০ একর ৩৩ শতাংশ জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল হেবা ও এওয়াজ দলিল তৈরি করা হয়েছে। আবদুল্লাহ মিয়া বাদী হয়ে
রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কয়েক দফা জমি ক্রয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বাদী মাওলানা আব্দুল্লাহ দাবি করেন, তার নামে নামজারি, খাজনা পরিশোধ এবং মাঠ জরিপের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে দলিল তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে তিনি দলিল বাতিল ও স্বত্ব ঘোষণার দাবিতে ২০২৫ সালে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্বত্ব মামলা নং-০৮ দায়ের করেন। মামলার তফসিলভুক্ত সম্পত্তি বাহুবল উপজেলার ফয়জাবাদ হিল্স মৌজার ১০ একর ভূমি।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণ ও বাগান শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে চা বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে এবং কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
