সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের আওতায় খোয়াই নদীর মাছুলিয়া সেতু থেকে উমেদনগর সেতু পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ উন্নয়ন ও উঁচুকরণের কাজ চলছে। বাঁধের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে মাটি ভরাট করে উচ্চতা বাড়ানো হয়েছে।
সম্প্রতি দেখা যায়, বাঁধের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও কাঠগাছ রয়েছে। অনেক গাছ স্থানীয় বাসিন্দারা রোপণ করলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাছ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে লাগানো হয়েছিল। এসব গাছের শিকড় বাঁধের মাটি ধরে রাখতে এবং ভাঙন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে হরিপুর এলাকার অপেক্ষাকৃত নির্জন অংশে সম্প্রতি একাধিক গাছ কেটে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জনবসতি কম থাকায় ওই এলাকা দুর্বৃত্তদের জন্য সহজ টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ফলে বাঁধের সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
মাছুলিয়া এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ মিয়া বলেন, মাঝে মধ্যে দুর্বৃত্তরা বাঁধ থেকে মাটিও কেটে নেয়ার চেষ্টা করে। এলাকাবাসী প্রতিরোধ করায় অনেক সময় তারা সফল হতে পারে না। হরিপুরের বাসিন্দা মিন্নত আলী বলেন, প্রায়ই শুনি নদীপাড়ের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাদকসেবী ও চোরচক্রের সদস্যরা এসব ঘটনার সাথে জড়িত।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ও প্রকল্প তদারকি কর্মকর্তা মো: মুজিবুল আলম এ ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে উত্তর শ্যামলী এলাকার কসকু মিয়া, গোসাইপুর এলাকার শামিম মিয়া এবং হরিপুর এলাকার সিরিজ আলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, খোয়াই নদীর তীরবর্তী বাঁধ শুধু শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষাই করে না, বরং এটি হাজারো মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার সাথে জড়িত। তাই, বাঁধের গাছ কাটা বা মাটি অপসারণের মতো কর্মকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বর্ষা শুরুর আগেই এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করা এবং বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাহেদুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শহর রক্ষা বাঁধে নিয়মিত নজরদারি, টহল জোরদার এবং গাছ কর্তনের সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে হবিগঞ্জ শহর নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
