দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান, সংস্কার হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তের কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহনের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল হাজারো পথচারী ও যাত্রীকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় এর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। বর্ষার পানিতে গর্তগুলো আরও বড় আকার ধারণ করায় যাত্রীবাহী বাস, অটোরিকশা, টমটম এবং পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল এবং সায়হাম গ্রুপ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ-এর নজরে এলে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের নির্দেশনায় মঙ্গলবার সকাল থেকে নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটির জরুরি সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সায়হাম গ্রুপের বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে ইট ও খোয়া ফেলে সড়কের বড় বড় গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। জগদীশপুর তেমুনিয়া এলাকা থেকে ছাতিয়াইন পর্যন্ত কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে একযোগে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শ্রমিকরা দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় টমটমচালক হাসান মিয়া বলেন, “অনেক দিন ধরে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে আমাদের অসহনীয় কষ্ট হয়েছে। গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকত। এখন যেভাবে সংস্কার করা হচ্ছে, তাতে চলাফেরা অনেক সহজ হবে।”

সায়হাম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন লিয়াকত আলী বলেন, “মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করেছি। দ্রুত এবং যতটা সম্ভব টেকসইভাবে কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয় বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল বাবুল বলেন, “জনগণের ভোগান্তি লাঘবে সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল ও সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই।”

মাধবপুর উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা রেজাউন নবী জানান, সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে উন্নতমানের সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জরুরি ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই সংস্কার কার্যক্রমের ফলে আপাতত যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে ভবিষ্যতে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।


শেয়ার করুন