শায়েস্তাগঞ্জে কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়ম ॥ ৭ দিনেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুরাবই-লালচান্দ সড়ক সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। কাজ এখনো শেষ হয়নি। এরই মধ্যে নতুন কার্পেটিং উঠে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নতুন ম্যাকাডম না দিয়ে পুরোনো অংশের ওপর কার্পেটিং এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সড়ক সংস্কার নিয়েও হতাশা নেমে এসেছে এলাকাবাসীর মধ্যে। জানা গেছে, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ১১ হাজার ৮৫৮ টাকা ব্যয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার লাদিয়া থেকে পুরাসুন্দা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুস সামাদ আজাদ। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের দাবি, যেখানে গাইডওয়াল নির্মাণের প্রয়োজন ছিল, সেখানে তা না করে তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও গাইডওয়ালের পরিবর্তে কলাগাছ ও বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নতুন ম্যাকাডম না দিয়ে পুরোনো কার্পেটিংয়ের ওপরই নতুন কার্পেটিং দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এক সপ্তাহও পার হয়নি, এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে এলজিইডির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, বহুদিনের প্রত্যাশিত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু নিম্নমানের কাজ ও যথাযথ তদারকির অভাবে সেই আশা হতাশায় পরিণত হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে কাজ চললে কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কটি আবারও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর ভাষ্য, নতুন কার্পেটিংয়ের চেয়ে আগের সড়কটিই ভালো ছিল। অন্তত এত দ্রুত নষ্ট হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হচ্ছে না। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সুমন মিয়া কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যেসব স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে, সেগুলো পুনরায় মেরামত করা হবে। নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কাজ সম্পন্ন করা হবে। উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সুজাত খান বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে পুনরায় কাজ শুরু হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদর উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইরাজ উদ্দিন দেওয়ান বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই কাজ সম্পন্ন করা হবে। কাজের মান নিশ্চিত না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল প্রকল্পটির নির্মাণমান নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, যথাযথ তদারকি না থাকার সুযোগেই কিছু অসাধু ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। ফলে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনগণের অর্থও অপচয় হচ্ছে।




শেয়ার করুন