মাধবপুরে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও দক্ষিণ মহল্লায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। দুই দফা হামলার ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন বাঘাসুরা ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ফসলের ক্ষেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে নোয়াগাঁও দক্ষিণ মহল্লার সর্দার জাকির হোসেন রোববার মাধবপুর থানায় নিজের ও গ্রামবাসীর নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই জিডিকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান সজল ও আওয়ালের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে হামলা চালায়। হামলাকারীরা জহুর আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে কাইয়ুম মিয়ার মুদি দোকান ও রাইস মিলে হামলা চালিয়ে মালামাল নষ্ট ও লুট করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা জাকির হোসেনের বাড়িতে থাকা একটি ধান কাটার হারভেস্টার মেশিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া কয়েকটি বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট এবং কৃষক দলের নেতা শামসুল হকের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়।

স্থানীয়দের দাবি, প্রথম দফার ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সোমবার সকালে একই পক্ষ আবারও হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি বসতঘর ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার শঙ্কায় অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন মনিরুল ইসলাম (৩৫), নজরুল ইসলাম (৩৮), সামছুল ইসলাম (৪০), কাইয়ুম মিয়া (৩৫), সবুজ মিয়া (৩০), স্বপ্না বেগম (৩৫), সালেমা খাতুন (৬০), ছফিয়া খাতুন (৪০) ও ফরিদ মিয়া (৩২)সহ অন্তত ১৫ জন। গুরুতর আহতদের কয়েকজনকে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জিডির বাদী জাকির হোসেন বলেন, "আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছি। কিন্তু এরপরই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান সজল বলেন, "এটি মূলত মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের ঘটনা। হামলার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং আমি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, "ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন


শেয়ার করুন