সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনের আলোতেই নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ রিং জাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারি নির্বিচারে মাছ আহরণ করছে।
স্থানীয়দের মতে, রিং জালের ব্যবহার বাড়ার ফলে প্রতিবছর হাওরে মাছের উৎপাদন কমছে। বাজারে মাছের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদেরও বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে।
একসময় এসব হাওরে প্রচুর পরিমাণে বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলা, মৃগেল, বাউশ, শোল, শিং, মাগুর, কৈ, পাবদা, টেংরা, পুঁটি ও মলা মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে এসব দেশীয় প্রজাতির মাছ আগের মতো দেখা যায় না। অনেক প্রজাতির মাছ দিন দিন বিরল হয়ে পড়ছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, নিষিদ্ধ রিং জালে শুধু বড় মাছই নয়, মাছের পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছও নির্বিচারে ধরা পড়ছে। পাশাপাশি কাঁকড়া, ব্যাঙ, সাপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও এ জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। এতে হাওরের প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সচেতন নাগরিকরা জানান, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে হাওরের অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্বও সংকটে পড়বে। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ রিং জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সোহানুর রহমান বলেন, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গত তিন সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে ৭০টি নিষিদ্ধ রিং জাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে অবৈধ জাল উৎপাদন ও বিপণনের উৎসেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।”
