স্থানীয় সূত্র জানায়, সোয়াবই গ্রামের ফুয়াদ হাসান সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়া একসময় একসঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় পরিচিত। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সম্প্রতি একটি মাছের দিঘিকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই বিরোধের জেরে গত শনিবার রাতে গন্ধবপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে হামলা চালানো হয়। মাহফুজ মিয়ার নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল খামারে ভাঙচুর চালিয়ে সাকিবকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন তার স্বজনরা। ঘটনার পর থেকে সাকিবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সাকিবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সোয়াবই গ্রামে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রবিবার রাতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তাকে উদ্ধারের দাবিতে রাজেন্দ্রপুর গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী রাজেন্দ্রপুরে গিয়ে সাকিবের সন্ধান করতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাহফুজ মিয়াকে মাদক কারবারি আখ্যা দিয়ে তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
খবর পেয়ে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ি ও মাধবপুর থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোয়াবই গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, “সাকিবকে অপহরণের ঘটনায় পুরো গ্রামে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাকে উদ্ধারের জন্যই গ্রামবাসী রাজেন্দ্রপুরে গিয়েছিল। তবে সেখানে গিয়ে কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে মাহফুজের বাড়িতে আগুন দেয়।”
এদিকে সাকিবের পিতা সিরাজুল ইসলাম মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
অন্যদিকে মাহফুজ মিয়া সাকিবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সাকিব কোথায় আছে, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। বিনা কারণে আমার বাড়িতে আগুন দিয়ে ক্ষতি করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেব।”
কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, “সাকিব নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে।”
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, “অপহরণ ও অগ্নিসংযোগ, উভয় ঘটনাকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
