বানিয়াচং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এল.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরটি একসময় ছিল স্বচ্ছ পানিতে ভরপুর, যা শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই পুকুর আজ হারিয়েছে তার আগের রূপ। বর্তমানে পুকুরটি সম্পূর্ণভাবে কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছে। দূর থেকে দেখলে এটি পুকুর নাকি সবুজ জমি তা বোঝার কোনো উপায় নেই। পানির অস্তিত্ব আছে কি না, সেটিও অনুধাবন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি সংস্কার বা পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে কচুরিপানা জমে পুকুরটি প্রায় ভরাটের অবস্থায় পৌঁছেছে। এতে করে পুকুরের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং পরিবেশগত ভারসাম্যও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ৯৭ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সময় এই পুকুরের পানি ছিল একেবারে স্বচ্ছ। আমরা এখানে সাঁতার কাটতাম, বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতাম। এখন দেখে খুবই কষ্ট লাগে।” ১৭ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী রফিকুল হক জানান, “এটি শুধু একটি পুকুর নয়, আমাদের স্মৃতির অংশ। দ্রুত পরিষ্কার ও সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহ্য সম্পর্কে কিছুই জানতে পারবে না।”
বর্তমান ছাত্র কামাল হোসেন বলেন, “বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখতে এই পুকুরটির গুরুত্ব অনেক। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে পুকুরটি পুনরুদ্ধার করা।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত পুকুরটি সংস্কার ও কচুরিপানা অপসারণ করা জরুরি। তা না হলে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
খবর বিভাগঃ
হবিগঞ্জ
