রঘুনন্দন বন রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মোজাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া জানান, এ বনাঞ্চলে শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, চাপালিশ, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, ডুমুর, জাম, জামরুল, জারুল, আকাশমণি, বাঁশ, বেত, আম, কাঁঠাল, আমলকি, হরিতকি ও কলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। সময়ের ব্যবধানে অনেক গাছ মারা যাওয়ায় নতুন করে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলদ গাছগুলো বন্যপ্রাণীর খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং পরিবেশে অক্সিজেন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও জানান, এ বনাঞ্চলে বানর, উল্লুক, চশমাপরা হনুমান, শিয়াল, নেউল, মেছোবাঘ, মেছো বিড়াল ও মায়া হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বিচরণ রয়েছে। এছাড়া বনমোরগ, কাঠঠোকরা, ময়না, টিয়া, শালিক, শ্যামা, ভিমরাজ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত রঘুনন্দন বন।
শালটিলা বন বিট কর্মকর্তা মো. মোহাইমিনুল ইসলাম সানি বলেন, রঘুনন্দন রেঞ্জের চারটি বন বিটে প্রহরীসহ মাত্র ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়েই বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী ও বনভূমি রক্ষার কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে লাঠি ও দেশীয় সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করেই নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
তিনি জানান, বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। পাকিস্তান আমলে নির্মিত আবাসিক ভবনগুলো বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নতুন অফিস ভবন নির্মিত হলেও অধিকাংশ স্থানে আবাসিক সুবিধা উন্নয়ন করা হয়নি।
জগদীশপুর বন বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন বন বিটের নার্সারিতে কাঠ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন করা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী এসব চারা বনাঞ্চলে রোপণ করা হয়। এতে বনজ সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর খাদ্য ও আবাসস্থলও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শালটিলা ও জগদীশপুর বন বিটে নতুন অফিস ভবন নির্মাণ হওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হয়েছে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসিক ভবন নেই। পুরোনো ভবনগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শাহজীবাজার বন বিট এলাকায় সাইনবোর্ড থাকলেও পাহাড়ের ওপর কোনো অফিস বা আবাসিক ভবন নেই। ফলে শাহপুর বন বিটের প্রহরীরা এসে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করে বন পাহারার দায়িত্ব পালন করছেন।
