হবিগঞ্জ-ইকরাম-সুজাতপুর ১৬ কিঃ মিঃ সড়কের বেহাল দশা ॥ বাড়ছে দূর্ঘটনা

 

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে হবিগঞ্জ-ইকরাম-সুজাতপুর সড়ক। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী ও চালকরা। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় (২য় পাতায় দেখুন) দুর্ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ। দ্রুত পুরো সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যায়, হবিগঞ্জ-ইকরাম-সুজাতপুর সড়কটি দক্ষিণ বানিয়াচং এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদের লক্ষাধিক মানুষের জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথ। মক্রমপুর, সুজাতপুর, মন্দরী, মুরাদপুর ও পৈলারকান্দি ইউনিয়নসহ কিশোরগঞ্জ জেলার কয়েকটি উপজেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গেছে এবং অনেক স্থানে সড়কের এজিং ভেঙে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে গর্তগুলোতে পানি জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পরিবহন চালকরা জানান, সড়কের বড় বড় গর্তে পড়ে প্রায়ই সিএনজি অটোরিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এতে চালক ও যাত্রীরা আহত হওয়ার পাশাপাশি যানবাহনের সাসপেনশন, টায়ারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে পানি জমে থাকায় গর্ত চিহ্নিত করা যায় না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। একই সঙ্গে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি সংস্কারের দাবিতে অতীতে মানববন্ধন, পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাই দ্রুত পুরো সড়কের সংস্কারকাজ শেষ করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) হবিগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির চার কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ঠিকাদার কার্পেটিংয়ের কাজও শুরু করেছিলেন। তবে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বর্তমানে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বৃষ্টির মধ্যে কার্পেটিংয়ের কাজ করা সম্ভব নয়। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ঠিকাদার পুনরায় পুরোদমে কাজ শুরু করবেন। পাশাপাশি সড়কের অবশিষ্ট অংশের সংস্কারের জন্যও প্রয়োজনীয় টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে পুরো সড়কের বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ করা হবে।



শেয়ার করুন