আমিনুল ইসলাম আপন ॥ মাধবপুর উপজেলা সদর থেকে চৌমুহনী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরে গেছে। কোথাও পিচ ও কার্পেটিং উঠে গেছে, আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ অঞ্চলের অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষ। সরেজমিনে দেখা যায়, মাধবপুর উপজেলা সদর থেকে চৌমুহনী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশও ভেঙে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকলে গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। পানি সরে গেলে বেরিয়ে আসে সড়কের ভাঙাচোরা ও বেহাল চিত্র। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। ধর্মঘর, চৌমুহনী, বহরা ও আদাঐরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে যানবাহনে চলাচল করাও অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। একজন স্থানীয় ভুক্তভোগী বলেন, “আমাদের কষ্টের কথা কেউ মনে রাখে না। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি। দ্রুত সংস্কার করা হলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় আবারও সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে প্রায় ১৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মাধবপুর উপজেলা সদর থেকে চৌমুহনী পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
খবর বিভাগঃ
হবিগঞ্জ
