শিল্পদূষণে অস্তিত্ব সংকটে সুতাং নদী ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যসম্পদ-কৃষি

শল্পকারখানার বর্জ্য ও পলি জমে নাব্যতা হারাচ্ছে হবিগঞ্জের সুতাং নদী। দূষিত পানিতে বিপন্ন হচ্ছে মাছসহ জলজ প্রাণী, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি। জীবিকার সংকটে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরাও। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর।

প্রায় ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ সুতাং নদী একসময় কৃষি, মৎস্য আহরণ ও নৌযোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর এলাকার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অপরিশোধিত বর্জ্য শৈলজুড়া খাল হয়ে নদীতে পড়ছে। এতে নদীর পানি কালচে হয়ে পড়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা তুলে ধরা প্রয়োজন।

নদীর দূষণে সেচের জন্য বিকল্প পানির উৎস ব্যবহার করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি মাছ কমে যাওয়ায় জেলেদের জীবিকাও হুমকিতে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দূষিত পানিতে ফসল ও গবাদিপশুর ক্ষতি হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যগত অভিযোগের সঙ্গে নদীদূষণের সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন।

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা নদীর পানি ও মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জলজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক ইফতেখার আহমেদ ফাগুন জানান, শিল্পদূষণে পানির ভৌত-রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারী ধাতুর উপস্থিতি নির্ণয়ে আরও পরীক্ষা চলছে।

খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার তোফাজ্জল সোহেল নদী রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. ইউসূফ আলী বলেন, নদীর পানি পরীক্ষা ও তদন্ত চলছে। জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ দলের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ বন্ধ, বর্জ্য শোধনাগারের কার্যকারিতা নিশ্চিত ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।



শেয়ার করুন