বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে চুনারুঘাটের লালচাঁদ চা বাগানের মন্দিরের সামনে এ বিক্ষোভ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। লাল সাঁওতালের সভাপতিত্বে এতে লালচাঁদ, দেউন্দি, গিলানী ও নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিকেরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল, নোয়াপাড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কমেট নায়েক, ইউপি সদস্য দুলাল ঘোষ, কার্তিক বাকতি, লক্ষ্মীকান্ত রায় ও দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার দাস। শ্রমিকেরা জানান, সাপ্তাহিক মজুরি না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজে ফিরতে অনাগ্রহী তাঁরা।
দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে হবিগঞ্জের তিনটি ও মৌলভীবাজারের একটি চা বাগান রয়েছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২২ সাল থেকে আর্থিক সংকটের কারণে বাগানগুলো পরিচালনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও চায়ের প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
লালচান্দ চা বাগানের শ্রমিক নেতা বিজন বাউরী ও পঞ্চায়েত নেতা খেলু নায়েক বলেন, সাপ্তাহিক মজুরি দিয়েই শ্রমিকদের সংসার চলে। মজুরি না পাওয়ায় খাবার ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কমেট নায়েক জানান, মজুরি পরিশোধের বিষয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেনি। মজুরি না পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলবে।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, মজুরির দাবির সমাধান না হওয়ায় তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের এক দফা দাবি, বর্তমান মালিকপক্ষকে তারা আর চান না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।
শ্রমিক নেতারা আরও জানান, আগামী রোববার হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করবেন তারা। পরে নিজেদের দাবি তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হবে। শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে।
লালচান্দ চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী বলেন, কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় অর্থসংকটের কারণে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও চায়ের দাম সে অনুপাতে না বাড়ায় বাগান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রকাশের আগে শ্রমিকদের কর্মবিরতির সর্বশেষ অবস্থা ও কৃষি ব্যাংকের বক্তব্য যুক্ত করলে সংবাদটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।
