লাখাই উপজেলার লখনাউক গ্রামে রাতের আঁধারে কীটনাশক প্রয়োগ করে এক কৃষকের সাড়ে চার কানি জমির টমেটো ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষক শফিকুল ইসলাম (৫০)। পাশাপাশি ক্ষেতটিতে কাজ করা ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিকও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শফিকুল ইসলাম লখনাউক গ্রামের মৃত মস্তু মিয়ার ছেলে। তাঁর অভিযোগ, গত ২৬ অক্টোবর রাতে কে বা কারা তাঁর টমেটো ক্ষেতে ঘাস মারার ওষুধ বা অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করে। পরদিন সকালে জমিতে গিয়ে গাছগুলো ঝলসে যেতে দেখেন শ্রমিকেরা। কৃষক জানান, প্রায় চার মাস ধরে ১৭ হাজার টমেটো গাছের পরিচর্যা করেছেন তিনি। চারা, সার, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় শিগগিরই টমেটো বিক্রির আশা করেছিলেন তিনি। ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ করা অর্থ হারানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শফিকুল। অন্যদিকে, ক্ষেতটিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিকও আয়ের পথ হারিয়েছেন। স্থানীয় কৃষক রাফান জানান, সকালে জমিতে গিয়ে গাছগুলো মরে থাকতে দেখে তিনি শফিকুলকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় ক্ষেতটি নষ্ট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষকের ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। স্বাভাবিক ফলন হলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করা সম্ভব হতো। এ ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়রা।
খবর বিভাগঃ
হবিগঞ্জ
