আইসিসিবিতে গাড়ি কেনার আগে যাচাইয়ের সুযোগ, থাকছে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ

আইসিসিবিতে গাড়ি কেনার আগে যাচাইয়ের সুযোগ, থাকছে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীতে গাড়ি কেনাবেচার ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)। প্রতি শুক্রবার বসছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। গত সাত সপ্তাহের ধারাবাহিক সাফল্যের পর গতকাল শুক্রবার অষ্টম সপ্তাহেও বসে এ আয়োজন। নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ির পাশাপাশি ট্রাক ও বাইকের সমাহার ছিল এবারের বাজারে। আকর্ষণীয় মূল্যছাড় ও উপহারের অফারও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।


উইজার্ড শোবিজ ও আইসিসিবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কার বাজার প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে।


গতকাল মেলায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সারি সারি গাড়ি। এক পাশে সাজানো ছিল নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, অন্য পাশে প্রদর্শিত হচ্ছিল ব্যক্তিগত ব্যবহৃত গাড়ি। পুরনো গাড়ি বিক্রি করে নতুন গাড়ি কেনার প্রত্যাশায় অনেক মালিক নিজেদের গাড়ি নিয়ে এসেছেন এ বাজারে। ফলে একই জায়গায় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি দেখার পাশাপাশি পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী কেনার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।


মেলায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে গাড়ির দামের পাশাপাশি নানা উপহারের ঘোষণাও ছিল। কোনো কোনো বিক্রেতা গাড়ি কেনার সঙ্গে বিনা মূল্যে আইফোন ও ই-বাইক দেওয়ার অফার দিয়েছেন। এসব আকর্ষণীয় অফার ঘিরে ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।


আয়োজকরা জানান, এবারের আয়োজনে মিত্সুবিশি, চ্যাংগান ডিপল ও হুন্দাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নতুন গাড়ি প্রদর্শিত হয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে ট্রাক ও দুটি চীনা ব্র্যান্ডের বাইক। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে যেকোনো ট্রাক কেনার সঙ্গে একটি স্কুটি বিনা মূল্যে দেওয়ার অফার রয়েছে। মেলায় আট লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ এক কোটি ৮৬ লাখ টাকা দামের গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে।


গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের স্বস্তি ও আস্থা বাড়াতে রাখা হয়েছে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে গাড়ি কেনার আগেই ইঞ্জিন, চেসিস, হুইলবেসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরীক্ষা করে সার্বিক অবস্থা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা। এ ছাড়া গাড়ি প্রদর্শনের জন্য রয়েছে বিশেষ র‍্যাম্প ডিসপ্লে। এর ফলে বিক্রেতারা নিজেদের গাড়ি আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারছেন।


আইসিসিবির ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, ‘মেলার অষ্টম সপ্তাহে এসেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি। এক ছাদের নিচে কার, ট্রাক, বাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া গাড়ি কেনার আগে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপে গাড়ির সার্বিক অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।’

মানবিকতার জয়গানে সান্তাহারে মিলিত হলেন শুভসংঘের তিন শতাধিক বন্ধু

মানবিকতার জয়গানে সান্তাহারে মিলিত হলেন শুভসংঘের তিন শতাধিক বন্ধু

বগুড়া প্রতিনিধি: মানবিকতা, সম্প্রীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বন্ধনে এক মিলনমেলায় পরিণত হয় বগুড়ার সান্তাহারের শখের পল্লী। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলা থেকে আসা তিন শতাধিক বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে হীরাঝিল কনভেনশন সেন্টার। পরিচিত-অপরিচিত মুখের মিলন, অভিজ্ঞতা বিনিময় আর মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয়ে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।


‘চলি মানবতার সাথে’ স্লোগানকে সামনে রেখে গত ২১ অক্টোবর বুধবার বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অনুষ্ঠিত হয় বসুন্ধরা শুভসংঘের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় সম্মেলন। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দুই বিভাগের ১৬ জেলার তিন শতাধিক সদস্য অংশ নেন। মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ, সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে আয়োজন করা হয় এ সম্মেলনের।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন।


বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি শামীম আল মামুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. সাদেকুল ইসলাম, বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও শখের পল্লীর স্বত্বাধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম এবং বগুড়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লিমন বাসার।


সম্মেলনে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও মানবিক উদ্যোগে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত ৬৫ জন সংগঠককে ‘সেরা সংগঠক সম্মাননা স্মারক’ ও সনদপত্র দেওয়া হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বগুড়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লিমন বাসার এবং সান্তাহারের প্রবীণ সাংবাদিক আলহাজ রফিকুল ইসলাম মন্টুকে ‘কৃতী সাংবাদিক সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি ইমদাদুল হক মিলন তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ কেবল একটি সামাজিক সংগঠন নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি সুদৃঢ় অঙ্গীকার। অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় সংগঠনের সদস্যদের এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করার এই প্রত্যয় দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বসুন্ধরা শুভসংঘ নিরলসভাবে কাজ করছে। সংগঠনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংগীতে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইসিসিবিতে উৎসব

ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংগীতে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইসিসিবিতে উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর কোলাহলমুখর পরিবেশ থেকে কিছুক্ষণের জন্য ভিন্ন এক আবহে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হেরিটেজ রেস্টুরেন্টে। এখানে একই আয়োজনে মিলেছে মোগল আমলের ঐতিহ্যবাহী খাবার, সুফি সংগীত আর রাজকীয় পরিবেশনা। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রসনার এই সম্মিলন সংগীতপ্রেমী এবং ভোজনরসিকদের জন্য তৈরি করেছে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।


গতকাল শুক্রবার রেস্টুরেন্টটিতে শুরু হয়েছে আট সপ্তাহব্যাপী ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর প্রথম পর্ব। ‘সুফি মিউজিক এডিশন’ শিরোনামে আয়োজিত এই পর্বে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলে সংগীত ও খাবারের বিশেষ আয়োজন।


রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতেই অতিথিদের স্বাগত জানায় সুফি সংগীতের মায়াবী সুর। কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, আবার কখনো আত্মিক উপলব্ধির কথা উঠে আসে গানের কথায়। মঞ্চে চলতে থাকে সংগীত পরিবেশনা, আর টেবিলে একে একে পরিবেশন করা হয় মোগল আমলের রন্ধনশৈলী অনুসরণে তৈরি নানা পদ। চারপাশের আলো, সাজসজ্জা ও সংগীতের সমন্বয়ে তৈরি হয় এক বিশেষ আবহ।


ছুটির দিনের সন্ধ্যায় কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেন এ আয়োজনে। রাজধানীর ব্যস্ততা ও দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পান অতিথিরা। খাবার ও সংগীতের পাশাপাশি পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া।


‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর অন্যতম আকর্ষণ মোগল আমলের খাবার। ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালি অনুসরণ করে তৈরি এসব খাবারের স্বাদ ও পরিবেশনায় তুলে ধরা হয়েছে মোগল সংস্কৃতির আভিজাত্য। পরিবেশনকর্মীরাও মোগল আমলের পোশাকে অতিথিদের সামনে খাবার তুলে ধরেন। এতে রেস্টুরেন্টের সামগ্রিক পরিবেশে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা।


আয়োজকদের ভাষ্য, মোগল খাবারের সঙ্গে বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির রয়েছে ঐতিহাসিক যোগসূত্র। সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সমসাময়িক পরিবেশে উপস্থাপন করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি অতিথিরা যেন মোগল আমলের রন্ধনশৈলী, জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


সংগীতের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ই ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর মূল আকর্ষণ। প্রতি সপ্তাহে সংগীতের ভিন্ন ধারা ও পরিবেশনার মাধ্যমে অতিথিদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।


শুক্রবারের সুফি সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আট সপ্তাহের প্রতিটি শুক্রবারে থাকছে সংগীতের আলাদা আয়োজন। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ নভেম্বর পরিবেশিত হবে রবীন্দ্রসংগীত। ১৩ নভেম্বর থাকবে নব্বইয়ের দশকের হিন্দি গান এবং ২০ নভেম্বর নজরুলগীতি।


এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর পরিবেশিত হবে কালজয়ী বাংলা গান। ৪ ডিসেম্বর থাকছে পিয়ানো ও কণ্ঠসংগীত, ১১ ডিসেম্বর শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীত এবং ১৮ ডিসেম্বর লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আট সপ্তাহের এই আয়োজন।


প্রতি শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলবে সংগীতের এ আসর। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী খাবার, ভিন্নধর্মী সংগীত পরিবেশনা ও নান্দনিক পরিবেশের সমন্বয়ে ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’ অতিথিদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।

টিনের চালাঘর থেকে বহুতল ভবন, নতুন স্বপ্ন দেখছে ভাওয়াইয়া পরিষদ

টিনের চালাঘর থেকে বহুতল ভবন, নতুন স্বপ্ন দেখছে ভাওয়াইয়া পরিষদ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলের লোকসংগীত ভাওয়াইয়ার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই সংগীতের চর্চা ছড়িয়ে দিতে কুড়িগ্রামের উলিপুরে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদের স্থায়ী বহুতল ভবন। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে একটি টিনের চালাঘরে সংগীতচর্চা ও শিল্পী তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা সংগঠনটির জন্য এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর শুক্রবার দুপুরে স্থাপন করা হয়েছে। এ উদ্যোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপসহ স্থানীয় প্রশাসন, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এলাকাবাসী সহযোগিতা করছেন।


১৯৯৩ সালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে একটি সাধারণ টিনের চালাঘরেই সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এখান থেকে দেশ-বিদেশে পরিচিতি পাওয়া প্রায় তিন হাজার ভাওয়াইয়া শিল্পী তৈরি হয়েছেন।


দীর্ঘদিনের এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে স্থায়ী ও আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সমাজসেবী গেলাপ হোসেনের দান করা পাঁচ শতক জমির ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


শুক্রবার দুপুরে উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পাশে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ভুপতি ভূষণ বর্মা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বশীর আহমেদ।


এতে বক্তব্য দেন উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী, ভাওয়াইয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজেন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ লাল, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গীতিকার তৌহিদুর রহমান, কসিম উদ্দিন পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মমিন এবং জমিদাতা গেলাপ উদ্দিনের ছেলে এনামুর রহমানসহ অন্যরা।


অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি খন্দকার একরামুল হক সম্রাট এবং নিউজ২৪-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর সূর্য।


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভাওয়াইয়া উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই সংগীতের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে সংগীতচর্চা, প্রশিক্ষণ ও শিল্পী তৈরির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।


তারা আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবনটি প্রতিষ্ঠিত হলে ভাওয়াইয়া সংগীতের চর্চা নতুন গতি পাবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা উপযুক্ত পরিবেশে প্রশিক্ষণ ও সাধনার সুযোগ পাবেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই লোকসংগীতের প্রসার দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও আরও সমৃদ্ধ হবে।

সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার

সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে ঢাকাকে জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বুধবার সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে দেশের পরিবেশ উন্নয়ন ও সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে সাধারণত ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায় না। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকার চিত্র চোখে পড়ে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। কারণ, অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলে রাখলে সেখান থেকে জীবাণু ছড়িয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


তিনি বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে যেন আবর্জনা বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


পরিবেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বায়ুদূষণ কমানো এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। দূষিত বাতাসের কারণে মানুষ যেন অসুস্থ না হয়, সে জন্য পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।


তারেক রহমান বলেন, ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হলে তা দেশের জন্য একটি বড় ধরনের সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হবে।


সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো খেটে খাওয়া মানুষ ও সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি এর সুফল পান বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারসহ সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের পরিবারসহ দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।


প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না যে বিএনপিকে ভোট দেন। কাজগুলো যদি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়, তাহলে আমাদের সমর্থন দিন, যাতে সেগুলো বাস্তবায়ন করা যায়।’


এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শিশুশিক্ষার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।


অনুষ্ঠান শেষে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীকে একটি আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।

সুফি সংগীতের আবহে আইসিসিবি হেরিটেজে জমকালো আয়োজন

সুফি সংগীতের আবহে আইসিসিবি হেরিটেজে জমকালো আয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্টে খাবারের স্বাদের সঙ্গে সংগীতের মেলবন্ধনে শুরু হয়েছে আট সপ্তাহব্যাপী বিশেষ আয়োজন ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’। মুঘল আমলের ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের আবহে আয়োজিত এই উৎসবের প্রথম পর্ব সাজানো হয়েছে সুফি সংগীত দিয়ে। ‘সুফি মিউজিক এডিশন’ শিরোনামের এ আয়োজনে থাকছে সরাসরি সংগীত পরিবেশনা ও মুঘল ঐতিহ্যের রাজকীয় খাবারের সমাহার।


কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন ৩০০ ফুট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে অবস্থিত রেস্টুরেন্টটিতে প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত চলবে এই সংগীত আয়োজন। এতে সংগীতপ্রেমীদের পাশাপাশি ভোজনরসিকদের জন্যও থাকছে বিশেষ অভিজ্ঞতার সুযোগ।


আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুফি সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসব আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। আট সপ্তাহের এই আয়োজনে পর্যায়ক্রমে বাংলা ও হিন্দি গানের পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, শাস্ত্রীয় সংগীত ও লোকসংগীত পরিবেশিত হবে।


উৎসবের পরবর্তী আয়োজনের সূচি হলো—


৬ নভেম্বর: রবীন্দ্রসংগীত

১৩ নভেম্বর: নব্বইয়ের দশকের হিন্দি গান

২০ নভেম্বর: নজরুলগীতি

২৭ নভেম্বর: কালজয়ী বাংলা গান

৪ ডিসেম্বর: পিয়ানো ও ভোকাল

১১ ডিসেম্বর: শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীত

১৮ ডিসেম্বর: লোকসংগীত বা ফোক

আয়োজন উপভোগ করতে আগ্রহীদের অগ্রিম টেবিল বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে ০১৯৬৯৯৯৯৮৬৬ ও ০১৯৯১১৯৭৭১৯ নম্বরে।

স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ, ১৬৮ নারীর হাতে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ঋণ

স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ, ১৬৮ নারীর হাতে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ঋণ

স্টাফ রিপোর্টার: অভাব-অনটনের কারণে যাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বারবার থমকে গেছে, তাঁদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ কার্যক্রম। কোনো জামানত ছাড়াই এ ঋণ নিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত নারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ১৬৮ নারীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন।


গতকাল উপজেলার আকানগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফাউন্ডেশনের ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে ঋণের অর্থ তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই। মো. চাঁনমিয়া সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


বসুন্ধরা গ্রুপের এ মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে গত দুই দশকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার এবারকার উপকারভোগী নারীদের প্রত্যেকের ওপর একটি করে পরিবার নির্ভরশীল। আর্থিক সংকটের কারণে নিজেদের উদ্যোগে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড শুরু করতে না পারলেও বিনা সুদে ঋণ পেয়ে নতুন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।


অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই বলেন, চড়া সুদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে অসচ্ছল নারীরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এ কার্যক্রম শুধু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক অবস্থার উন্নয়নেই ভূমিকা রাখছে না, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ টাকা কোনো অবৈধ কাজে ব্যয় করা যাবে না। সৎ ও বৈধ উপায়ে আয় করার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। এর মাধ্যমে পরিবারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকপক্ষের জন্য দোয়া করারও আহ্বান জানান তিনি।


বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপ একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে। ঋণ বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রশিক্ষণ, সেলাই মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এ কার্যক্রম গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাঁদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


ঋণের অর্থ হাতে পেয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন উপকারভোগীরা। নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের শিল্পী আক্তার (৩০) জানান, ঋণের টাকা কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে চান তিনি।


একই উপজেলার বাড়াইল গ্রামের মর্জিনা আক্তার (৩৫) বলেন, তাঁর স্বামী কৃষিকাজ করেন। ঋণের অর্থ কৃষিকাজে বিনিয়োগ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চান তাঁরা।


অন্যদিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আকানগর গ্রামের গীতা রানী (৩৮) আগের ঋণের অর্থ কাজে লাগিয়ে পরিবারের আয় বাড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগেরবার ঋণের টাকা দিয়ে তাঁর স্বামী আসবাবপত্র তৈরি করে বিক্রি করেছিলেন। এবার ঋণের অর্থ দিয়ে একটি গরু কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবারের আয় বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।


ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে মোট ১৬৮ জন নারীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবার ঋণ পেয়েছেন ৫০ জন, প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দ্বিতীয়বার ২২ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়বার ২১ জন পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া চতুর্থবারের মতো ৭৫ জনকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।


কোনো সুদ, সার্ভিস চার্জ কিংবা জামানত ছাড়াই পরিচালিত বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এ ঋণ কার্যক্রম সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তাঁদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সহায়তা করছে।

ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী সিন্ডিকেট, বছরে আদায় ৩ হাজার কোটি টাকা

ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী সিন্ডিকেট, বছরে আদায় ৩ হাজার কোটি টাকা

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকার ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিপুল অর্থের অবৈধ বাণিজ্য। পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য নির্মিত এসব ফুটপাতের বড় অংশ এখন হকারদের দখলে। আর এই দখলকে পুঁজি করে সক্রিয় রয়েছে চাঁদাবাজদের সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের তথ্য এবং বিভিন্ন গবেষণার পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফুটপাত থেকে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বিপুল অঙ্কের এই অর্থের লেনদেনের আড়ালে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নগরবাসীর চলাচলের অধিকার, বাড়ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও ফুটপাত দখল এবং চাঁদাবাজির এই চক্র ভাঙা সম্ভব হয়নি।


বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় নিয়মিত হকারের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের সময় এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছায়। হকারপ্রতি প্রতিদিন গড়ে ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হলে দৈনিক আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ কোটি টাকার বেশি। সেই হিসাবে বছরে চাঁদা আদায়ের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।


এর আগে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইজিডি) এক গবেষণায় ঢাকার ফুটপাত থেকে বছরে ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য উঠে এসেছিল। সংশ্লিষ্ট গবেষকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই অঙ্ক বেড়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।


রাজধানীর গুলিস্তান, নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম, পল্টন, মতিঝিল, দৈনিক বাংলা মোড়, গোলাপশাহ মাজার, জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় ফুটপাতকেন্দ্রিক হকারদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। তবে চাঁদাবাজির বিস্তৃতি শুধু এসব বাণিজ্যিক এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকার সামনের ফুটপাতেও দোকান, ভ্যান ও অস্থায়ী স্থাপনা বসিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।


চাঁদার পরিমাণও নির্ধারিত হয় দোকানের আকার, অবস্থান এবং পণ্যের ধরন অনুযায়ী। ছোট দোকান বা ভ্যান থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করা হলেও বড় টেবিল বা চৌকির ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ব্যবহারের নামে প্রতিটি বাল্বের জন্য ১০০ টাকা এবং নিরাপত্তার অজুহাতেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়।


ফুটপাতকেন্দ্রিক এই অবৈধ অর্থনীতির পেছনে রয়েছে সংগঠিত একটি চাঁদাবাজ চক্র। হকারদের অভিযোগ এবং বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে অর্থ সংগ্রহ থেকে শুরু করে এর বণ্টন পর্যন্ত রয়েছে একাধিক স্তরের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।


ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইজিডির গবেষণায় চাঁদার অর্থ বণ্টনের যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে তিনটি পক্ষের মধ্যে এই অর্থ ভাগ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।


গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আদায় করা অর্থের ৩০ শতাংশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। মাঠপর্যায়ে চাঁদা সংগ্রহ, দোকানের জায়গা নিয়ন্ত্রণ এবং হকারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত লাইনম্যান ও নিয়ন্ত্রণকারীরা পান ৪০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশ যায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে।


অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণকারী এই চক্রের কাঠামো খুব একটা বদলায় না। বরং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পুরোনো নেটওয়ার্কের সঙ্গে নতুন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যুক্ত হয়ে চাঁদাবাজির কার্যক্রম চালিয়ে যান।


অন্যদিকে, পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


রাজধানীর ফুটপাতকে পথচারীদের জন্য নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য করতে শুধু উচ্ছেদ অভিযান যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।


ঢাকার সব হকারকে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের আওতায় আনতে হবে। নিবন্ধিত হকারদের পরিচয়পত্র এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক অনুমতিপত্র দিতে হবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত হকারদের সংখ্যা, ব্যবসার ধরন ও অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।


নিবন্ধিত হকারদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে সরকারি ফি বা টোল আদায়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ অর্থ সরাসরি সিটি করপোরেশন বা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। ফলে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের সুযোগ কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।


ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত লাইনম্যান, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং অসাধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে হবে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।


বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রশাসনিক প্রভাব যেন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।


ফুটপাতের মূল ব্যবহার নিশ্চিত করতে পথচারীদের চলাচলের জায়গা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে। তবে হকারদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টিও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


এ জন্য জনসমাগম ও চলাচলের চাপ বিবেচনায় নিয়ে অপেক্ষাকৃত কম ব্যস্ত সড়ক বা নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের জন্য ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর, সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক ব্যবসার ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।


দীর্ঘমেয়াদে হকারদের জন্য আধুনিক ও পরিকল্পিত হকার্স মার্কেট, নির্ধারিত বাজার কিংবা বিশেষ হকার্স কর্নার নির্মাণ করতে হবে। এতে একদিকে যেমন ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে হকারদের জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থাও তৈরি হবে।


ফুটপাত দখল এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার, পুলিশ, সিটি করপোরেশন, নাগরিক প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন মনিটরিং সেল গঠন করা প্রয়োজন।


এই কমিটি নিয়মিতভাবে ফুটপাতের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং চাঁদাবাজি কিংবা অবৈধ দখলের অভিযোগ তদন্ত করবে। উচ্ছেদ অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো যাতে আবার দখল হয়ে না যায়, সে জন্য স্থায়ী নজরদারি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা রাখতে হবে।


অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোথায়, কখন এবং কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার তথ্যও জনসমক্ষে প্রকাশ করা যেতে পারে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের জবাবদিহি বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।


ঢাকার ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি নগরবাসীর নির্বিঘ্নে হাঁটাচলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। অথচ দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফুটপাতকে অবৈধ আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে। এর ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, যানজট ও নগরজীবনের ভোগান্তি।


এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু হকার উচ্ছেদ নয়, বরং ফুটপাতকেন্দ্রিক অবৈধ অর্থনীতির মূল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ভেঙে দিতে হবে। হকারদের জন্য বৈধ ও পরিকল্পিত ব্যবসার সুযোগ তৈরি, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নিয়মিত তদারকি—এই চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।


রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অবৈধ দখলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব নয়। পথচারীর অধিকার রক্ষা এবং হকারদের জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেই ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, চলাচলবান্ধব ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে নষ্ট ৪ কানি টমেটো জমি ॥ কর্মহীন ২৫ শ্রমিক

লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে নষ্ট ৪ কানি টমেটো জমি ॥ কর্মহীন ২৫ শ্রমিক

লাখাই উপজেলার লখনাউক গ্রামে রাতের আঁধারে কীটনাশক প্রয়োগ করে এক কৃষকের সাড়ে চার কানি জমির টমেটো ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষক শফিকুল ইসলাম (৫০)। পাশাপাশি ক্ষেতটিতে কাজ করা ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিকও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শফিকুল ইসলাম লখনাউক গ্রামের মৃত মস্তু মিয়ার ছেলে। তাঁর অভিযোগ, গত ২৬ অক্টোবর রাতে কে বা কারা তাঁর টমেটো ক্ষেতে ঘাস মারার ওষুধ বা অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করে। পরদিন সকালে জমিতে গিয়ে গাছগুলো ঝলসে যেতে দেখেন শ্রমিকেরা। কৃষক জানান, প্রায় চার মাস ধরে ১৭ হাজার টমেটো গাছের পরিচর্যা করেছেন তিনি। চারা, সার, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় শিগগিরই টমেটো বিক্রির আশা করেছিলেন তিনি। ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ করা অর্থ হারানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শফিকুল। অন্যদিকে, ক্ষেতটিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিকও আয়ের পথ হারিয়েছেন। স্থানীয় কৃষক রাফান জানান, সকালে জমিতে গিয়ে গাছগুলো মরে থাকতে দেখে তিনি শফিকুলকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় ক্ষেতটি নষ্ট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষকের ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। স্বাভাবিক ফলন হলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করা সম্ভব হতো। এ ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়রা। 


কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে দেউন্দি টি কোম্পানি ॥ শ্রমিকদের কর্মবিরতি

কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে দেউন্দি টি কোম্পানি ॥ শ্রমিকদের কর্মবিরতি

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি। এর প্রভাবে সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে চুনারুঘাটের দেউন্দি ও লালচান্দ এবং মাধবপুরের নোয়াপাড়া চা বাগানের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করছেন। এছাড়া গতকাল দুপুরে মজুরির দাবিতে  বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন হবিগঞ্জের চার চা বাগানের শ্রমিকেরা। দাবি আদায়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। দাবি পূরণ না হলে প্রয়োজনে সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে চুনারুঘাটের লালচাঁদ চা বাগানের মন্দিরের সামনে এ বিক্ষোভ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। লাল সাঁওতালের সভাপতিত্বে এতে লালচাঁদ, দেউন্দি, গিলানী ও নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিকেরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল, নোয়াপাড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কমেট নায়েক, ইউপি সদস্য দুলাল ঘোষ, কার্তিক বাকতি, লক্ষ্মীকান্ত রায় ও দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার দাস। শ্রমিকেরা জানান, সাপ্তাহিক মজুরি না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজে ফিরতে অনাগ্রহী তাঁরা।

দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে হবিগঞ্জের তিনটি ও মৌলভীবাজারের একটি চা বাগান রয়েছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২২ সাল থেকে আর্থিক সংকটের কারণে বাগানগুলো পরিচালনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও চায়ের প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

লালচান্দ চা বাগানের শ্রমিক নেতা বিজন বাউরী ও পঞ্চায়েত নেতা খেলু নায়েক বলেন, সাপ্তাহিক মজুরি দিয়েই শ্রমিকদের সংসার চলে। মজুরি না পাওয়ায় খাবার ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কমেট নায়েক জানান, মজুরি পরিশোধের বিষয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেনি। মজুরি না পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলবে।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, মজুরির দাবির সমাধান না হওয়ায় তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের এক দফা দাবি, বর্তমান মালিকপক্ষকে তারা আর চান না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।

শ্রমিক নেতারা আরও জানান, আগামী রোববার হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করবেন তারা। পরে নিজেদের দাবি তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হবে। শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে।

লালচান্দ চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী বলেন, কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় অর্থসংকটের কারণে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও চায়ের দাম সে অনুপাতে না বাড়ায় বাগান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রকাশের আগে শ্রমিকদের কর্মবিরতির সর্বশেষ অবস্থা ও কৃষি ব্যাংকের বক্তব্য যুক্ত করলে সংবাদটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।


ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু জাতীয় ফার্নিচার মেলা

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু জাতীয় ফার্নিচার মেলা

স্টাফ রিপোর্টার: দেশীয় আসবাবশিল্পের আধুনিক নকশা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ২১তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা। বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির (বিএফএসএমএস) আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলায় অংশ নিয়েছে দেশের ৪৪টি শীর্ষস্থানীয় ফার্নিচার কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানগুলো ৩২৩টি স্টলে তাদের বিভিন্ন ধরনের আসবাব ও আধুনিক ডিজাইনের পণ্য প্রদর্শন করছে।


গতকাল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ মেলা আইসিসিবির পুষ্পগুচ্ছ, রাজদর্শন ও নবরাত্রি হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশে কোনো ফি লাগবে না। পাশাপাশি মেলা উপলক্ষে ক্রেতারা বিভিন্ন আসবাবের ওপর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় পাবেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এবং বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ড. কে এম আকতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএমএসের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান।


অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, দেশের আসবাবশিল্প অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে এ খাতে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটি শিল্পটির ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।


এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের মতো প্রচলিত রপ্তানি খাতের বাইরে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় ফার্নিচার ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান তৈরি হওয়া দেশের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার আসবাবের বাজার গড়ে উঠেছে, যার পুরোটাই এখন দেশীয় শিল্পের দখলে।


বিএফএসএমএসের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান বলেন, দেশীয় আসবাবশিল্পের অগ্রগতি ধরে রাখতে পণ্যের মান উন্নয়ন, নকশা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন এবং দক্ষ জনবলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।


মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএফএসএমএসের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ আবদুল আউয়াল বলেন, জাতীয় ফার্নিচার মেলা দেশীয় উৎপাদকদের নতুন নকশা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবন ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। একই স্থানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর অংশগ্রহণের ফলে ক্রেতারা বিভিন্ন পণ্যের নকশা ও বৈশিষ্ট্য তুলনা করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আসবাব বেছে নিতে পারবেন।


মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আখতার, হাতিল, ব্রাদার্স, নাদিয়া, আয়ত, ওমেগা, জেএমজি, নাভানা, অ্যাথেনাস, পারটেক্স, রিগাল ও লেগাসিসহ বিভিন্ন পরিচিত ব্র্যান্ড। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।


মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার (ডিটিসি)।

মাদক সেবনের অভিযোগে সাজা, আইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি

মাদক সেবনের অভিযোগে সাজা, আইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি: অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অথচ রাজধানীর ভাটারা থানার পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানের পর ৮৫ জনকে মাদক গ্রহণের অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নাগরিক অধিকার এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাদক গ্রহণের অভিযোগ যাচাইয়ে কোনো চিকিৎসাগত বা রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বাড়িটি পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বলে জানা গেছে। সেখানে উপস্থিত এক বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর বাবা একটি জাতীয় দৈনিককে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে একটি সংগীতানুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর কাজ পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকেও মাদক গ্রহণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


ঘটনাটি শুধু অভিযানের যৌক্তিকতা নয়, বরং অভিযোগ নির্ধারণ, অপরাধ প্রমাণ এবং শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক সুরক্ষা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।


বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। একই সঙ্গে আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি করা যাবে না।


এ ছাড়া সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে কাউকে বঞ্চিত না করার নিশ্চয়তা রয়েছে। ৩৩ অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তার ও আটক-সংক্রান্ত সুরক্ষার বিধান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ৩৫ অনুচ্ছেদে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার ও শাস্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।


ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে কোনো স্থানে উপস্থিত থাকা কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না। প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা যাচাই করা জরুরি।


৮৫ জনকে একই অভিযানে আটক করে মাদক গ্রহণের অভিযোগে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।


ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯-এর আওতায় নির্ধারিত শর্তে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। তবে এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও আইনের নির্ধারিত সীমা, বিচারিক পদ্ধতি এবং অপরাধের উপাদান পূরণ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিভিন্ন ধরনের মাদকসংক্রান্ত অপরাধের জন্য পৃথক বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তি মাদক সেবন করেছেন—এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ঘটনার ধরন, প্রযোজ্য আইনের বিধান এবং উপলব্ধ সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসাগত পরীক্ষা, রাসায়নিক বিশ্লেষণ কিংবা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


তবে সব ধরনের মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত বা রাসায়নিক পরীক্ষা আইনত বাধ্যতামূলক কি না, তা সংশ্লিষ্ট অপরাধের প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইনের বিধান দেখে নির্ধারণ করতে হবে। একইভাবে, পরীক্ষা করা হয়নি বলেই কোনো ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দণ্ডাদেশ অবৈধ হয়ে যায়—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। মূল প্রশ্ন হলো, অভিযোগ প্রমাণে আইনসম্মত ও পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।


তাই আলোচিত ঘটনায় কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল, কোন আইনি বিধানে সাজা দেওয়া হয়েছে, কী সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত তার এখতিয়ারের মধ্যে থেকে বিচার করেছেন কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি।


কোনো বাড়ি, অনুষ্ঠান কিংবা জমায়েতে উপস্থিত থাকলেই একজন ব্যক্তি সেখানে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়ে যান না। কোনো স্থানে মাদক সেবনের ঘটনা ঘটে থাকলেও প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি মাদক গ্রহণ করেছেন বা অপরাধে সহযোগিতা করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ব্যক্তিভিত্তিক তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।


বিশেষ করে, একই ঘটনায় বহু ব্যক্তিকে একসঙ্গে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি, সংশ্লিষ্টতার ধরন এবং প্রমাণের পর্যাপ্ততা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রমাণের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।


এ ঘটনায় বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলে সেখানে সংগীত পরিবেশনের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। বক্তব্যটি সত্য হলে তাঁর উপস্থিতির কারণ, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের প্রকৃতি এবং মাদক গ্রহণের অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ ছিল, তা যাচাই করা প্রয়োজন। পেশাগত কাজে কোনো স্থানে যাতায়াতের কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।


অভিযান পরিচালিত বাড়িটি একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বলে সংবাদমাধ্যমে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও ঘটনাটির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু বাড়ির মালিকানার তথ্য থেকে কোনো অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বরং অভিযানের পরিকল্পনা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা, আটক করার কারণ এবং পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব অপরাধ প্রতিরোধ করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে অভিযান পরিচালনার সময় নাগরিকের অধিকার রক্ষা, ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও তাদের দায়িত্বের অংশ।


যদি তদন্তে দেখা যায়, যথাযথ যাচাই ছাড়াই কাউকে আটক করা হয়েছে কিংবা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া সাজা দেওয়া হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। বিপরীতে, অভিযোগের পক্ষে আইনসম্মত প্রমাণ থাকলে সেটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করতে হবে।


ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় কয়েকটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।


প্রথমত, নিরপেক্ষ তদন্ত: ৮৫ জনকে আটক, অভিযোগ গঠন এবং সাজা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনার জন্য উপযুক্ত স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারিক তদন্তের উদ্যোগও বিবেচনা করা যেতে পারে। তদন্তে অভিযানের নথি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


দ্বিতীয়ত, প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার: মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে অপরাধের ধরন অনুযায়ী আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ এবং মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত বা পরীক্ষাগারভিত্তিক বিশ্লেষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কেবল অনুমান, সন্দেহ কিংবা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।


তৃতীয়ত, দণ্ডাদেশ পর্যালোচনা ও আইনি প্রতিকার: কোনো দণ্ডাদেশে আইনগত ত্রুটি, এখতিয়ারসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা প্রমাণের গুরুতর ঘাটতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দণ্ডাদেশের ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে উপযুক্ত আদালতে আপিল, পর্যালোচনা বা অন্য আইনসম্মত প্রতিকারের পথ অনুসরণ করা যেতে পারে।


চতুর্থত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা: অভিযানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করতে হবে। কোনো অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


পঞ্চমত, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ: ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, আটক ব্যক্তিদের অধিকার, অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ এবং তাৎক্ষণিক বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি জোরদার করা দরকার। একই সঙ্গে আটক ও দণ্ডাদেশ-সংক্রান্ত তথ্যের যথাযথ নথিবদ্ধকরণ এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।


একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রয়োগের লক্ষ্য শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। অপরাধের অভিযোগ উঠলে তার যথাযথ তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং আইনসম্মত শাস্তি নিশ্চিত করতে হয়। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অযথা আটক, হয়রানি বা শাস্তির শিকার না হন, সে বিষয়েও রাষ্ট্রকে সতর্ক থাকতে হয়।


রাজধানীর ভাটারার আলোচিত ঘটনাটি তাই কেবল একটি অভিযান কিংবা কয়েকজন ব্যক্তির সাজা পাওয়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং বিচারব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থার প্রশ্ন জড়িত।


তবে প্রকাশিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে কোনো আইন লঙ্ঘিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, আদালতের আদেশ এবং প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।


প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, আইনগত ত্রুটি থাকলে তার প্রতিকার এবং দায়িত্বে অবহেলা বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।

এয়ারসাইডে যানবাহন নিয়ন্ত্রণহীন, ঝুঁকিতে উড়োজাহাজের নিরাপদ চলাচল

এয়ারসাইডে যানবাহন নিয়ন্ত্রণহীন, ঝুঁকিতে উড়োজাহাজের নিরাপদ চলাচল

বিশেষ প্রতিনিধি: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোনে চলাচলকারী শত শত যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এসব যানবাহনে বাধ্যতামূলক ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপন না করায় বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) একাধিকবার নির্দেশনা ও সময়সীমা নির্ধারণ করলেও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৭ ডিসেম্বরের পর ভিটিএস ছাড়া কোনো যানবাহনকে এয়ারসাইডে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।


এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো যানবাহন অনুমোদনহীনভাবে প্রবেশ করলে কিংবা নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচল করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে উড়োজাহাজের নিরাপদ ওঠানামা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী ও বিমানবন্দরের কর্মীদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।


এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, এয়ারসাইডে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন যান কোথায় রয়েছে, কী গতিতে চলছে এবং অনুমোদিত এলাকায় অবস্থান করছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা প্রয়োজন। রানওয়ে বা ট্যাক্সিওয়েতে কোনো যানবাহনের সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, বেবিচকের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এয়ারলাইন্সগুলোর বিলম্ব নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত সব যানবাহনকে কেন্দ্রীয় নজরদারির আওতায় আনার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, ভিটিএস স্থাপনের জন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে একাধিকবার সময় দেওয়া হয়েছে এবং বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এবার আর সময় বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিটিএস স্থাপন না করলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনকে এয়ারসাইডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।


তিনি জানান, বিশ্বের আধুনিক বিমানবন্দরগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিটিএস কার্যকর হলে এয়ারসাইডে চলাচলকারী অনুমোদিত যানবাহনের অবস্থান ও গতিবিধি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা না থাকায় এসব গাড়ির চলাচল কার্যকরভাবে নজরদারি করা যাচ্ছে না।


কোন এয়ারলাইন্স কতটি গাড়িতে ভিটিএস স্থাপন করেছে এবং কতটি গাড়ি এখনো বাকি রয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেবিচকের সূত্র অনুযায়ী, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা, স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সসহ বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।


বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোন এলাকায় উড়োজাহাজ ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বেবিচক ভিটিএস স্থাপন বাধ্যতামূলক করে। সদ্য স্থাপিত সিএনএস-এটিএম ও অ্যাডভান্সড সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের (এ-এসএমজিসিএস) আওতায় এই ব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ জুনের মধ্যে সব যানবাহনে ভিটিএস স্থাপন করে তালিকা জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়। এরপরও এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি। প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনীহা দেখা যায়।


এ অবস্থায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে গত ২৬ অক্টোবর ‘অতীব জরুরি’ চিঠি জারি করা হয়। পরিচালক মো. শামসুল হকের সই করা ওই চিঠিতে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে সব যানবাহনে ভিটিএস স্থাপন সম্পন্ন করে শতভাগ বাস্তবায়নের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেই সময়সীমাও পার হয়েছে। এরপরও কোনো উড়োজাহাজ কোম্পানি ভিটিএসযুক্ত যানবাহনের তালিকা জমা দেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনসংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৭ ডিসেম্বরের পর ভিটিএস ছাড়া কোনো যানবাহন এয়ারসাইডে চলাচল করতে পারবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে এবং এর ফলে কোনো দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তাঝুঁকি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে দায়ভার বহন করতে হবে বলেও বেবিচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যানবাহনে ট্র্যাকার স্থাপন করা হলে রাডারভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি গাড়ির অবস্থান ও গতিবিধি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কোনো গাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করলে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিমান ওঠানামার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা যাবে।


কিন্তু বারবার নির্দেশনা দেওয়ার পরও ভিটিএস স্থাপন না করার কারণ জানতে চাইলে এয়ার অ্যাস্ট্রার হেড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড এয়ারলাইন সিকিউরিটি গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এবিএম সারওয়ার জামান বলেন, ভিটিএস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এ কারণে কিছুটা সময় লাগছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগেই ভিটিএস স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিটিএস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিগগিরই প্রয়োজনীয় তালিকা বেবিচকের কাছে জমা দেওয়া হবে।


বিমানবন্দরের এয়ারসাইডে যানবাহন চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন ঘটনায় উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার নজির রয়েছে।


গত বছরের নভেম্বরে শাহজালাল বিমানবন্দরে একটি পুশকার্টের ধাক্কায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং উড়োজাহাজের নোজ হুইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়েছিল। এর আগে ২০২২ সালে বিমানের হ্যাঙ্গার থেকে একটি বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজ বের করার সময় সেটি সেখানে অবস্থানরত আরেকটি বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজকে ধাক্কা দেয়। একই বছর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ট্রলি বিমানের একটি উড়োজাহাজে আঘাত করে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এয়ারসাইডে যানবাহনের অবস্থান ও চলাচল পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।


বেবিচক সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে অ্যাডভান্সড সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এ-এসএমজিসিএস) এবং ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম স্থাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে প্রতিটি যানবাহনের অবস্থান, গতি ও চলাচলের রুট তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।


তবে উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড সাপোর্ট যান, ক্যাটারিং ভ্যান, কার্গো ভ্যান ও অন্যান্য সেবামূলক যানবাহনে প্রয়োজনীয় ট্র্যাকার স্থাপন না করায় প্রযুক্তিটির পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।


এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের নিয়ন্ত্রকরা রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, অ্যাপ্রোন ও সংলগ্ন এলাকায় চলাচলকারী বা অবস্থানরত উড়োজাহাজ এবং অন্যান্য যান্ত্রিক যান শনাক্ত করতে পারেন। যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি সাধারণত নির্মাণের সময় থেকেই সংযোজিত থাকে। কিন্তু গাড়ি, বাস ও অন্যান্য সেবামূলক যানবাহন শনাক্ত করতে সেগুলোতে আলাদা ভেহিকেল ট্র্যাকার স্থাপন করতে হয়।


বিমানবন্দরের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে শতাধিক ভেহিকেল ট্র্যাকার ও সংশ্লিষ্ট শনাক্তকরণ সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব। তবে যানবাহনে ট্র্যাকার স্থাপন এবং সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় নজরদারির আওতায় আনা না গেলে বিদ্যমান প্রযুক্তির কার্যকারিতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাবে না। ফলে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দেশনার বাস্তবায়নই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষার পথে আর্থিক বাধা দূর করতে শুভকে সহায়তা এবিজি ফাউন্ডেশনের

শিক্ষার পথে আর্থিক বাধা দূর করতে শুভকে সহায়তা এবিজি ফাউন্ডেশনের

গাজীপুর প্রতিনিধি: অভাবের কারণে যেন ঝরে না পড়ে শিক্ষাজীবন, পূরণ হয় স্বপ্ন—এমন প্রত্যাশা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী তাসলিম আহমেদ শুভ। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতায় প্রায় দুই বছরের স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি ও নিবন্ধন ফি বকেয়া পড়ে যাওয়ায় তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত তার শিক্ষাজীবন সচল রাখতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবিজি (আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ) ফাউন্ডেশন।


গাজীপুরের পাজুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা শুভর পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস তার বাবার পরিশ্রম। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি স্থানীয় ডেইরি ফার্ম থেকে দুধ কিনে বাজারে বিক্রি করেন। পাশাপাশি অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেও সংসারের খরচ জোগান। সীমিত আয়ে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটানোর পর ছেলের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।


অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন শুভ। গত চার বছর ধরে বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তির আওতায় প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে পেয়ে আসছেন তিনি। এই অর্থ তার শিক্ষার ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে।


তবে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার পর পরিবারের আর্থিক চাপ আরও বেড়ে যায়। শিক্ষাবৃত্তির টাকা দিয়ে কোচিংয়ের মাসিক বেতন পরিশোধ করলেও স্কুলের জমে থাকা বকেয়া, পরীক্ষার ফি ও এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন ফি দেওয়ার মতো অর্থ পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। এতে তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।


শুভর এই সংকটের কথা জানতে পেরে তার শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে এগিয়ে আসে এবিজি ফাউন্ডেশন। গত রোববার গাজীপুর মহানগরের চাপুলিয়ায় অবস্থিত মফিজ উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শুভর প্রায় দুই বছরের বকেয়া বেতন, পরীক্ষার ফি, এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন ফিসহ অন্যান্য বকেয়া পরিশোধের জন্য অনুদান দেওয়া হয়।


এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা আক্তার, শিক্ষার্থী তাসলিম আহমেদ শুভ ও তার মা নাছিমা বেগমের হাতে এবিজি ফাউন্ডেশনের অনুদানের চেক তুলে দেন কালের কণ্ঠের স্টাফ ফটোসাংবাদিক লুৎফর রহমান।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা আক্তার বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে। এই সহযোগিতার ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি এবিজি ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


এদিকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শুভর মা নাছিমা বেগম। তিনি এবিজি ফাউন্ডেশন ও বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।


আর্থিক সংকটের কারণে যে শিক্ষাজীবন থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এবিজি ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সেই বাধা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন শুভ। তার মতো অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ পড়াশোনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণেও আশার আলো দেখায়।

দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ জানাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা

দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ জানাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, বৃত্তি, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং শিক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানতে রাজধানীতে আয়োজন করা হচ্ছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন এক্সপোর ৬৫তম আসর। আগামী ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী এ শিক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ফেয়ার কনভেনর ইন্টারন্যাশনাল এ আয়োজন করছে।


মেলায় দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্টাডি অ্যাব্রোড কনসালটেন্সি, আইইএলটিএস ও অন্যান্য পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কেন্দ্রসহ শিক্ষা ও ক্যারিয়ার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।


একই স্থানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা, স্কলারশিপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিয়ম, শিক্ষার্থী ভিসা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ শিক্ষা পরামর্শক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নিজেদের পছন্দ ও লক্ষ্য অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কোর্স সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।


শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য মেলায় প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ফ্রি টিকিট সংগ্রহ এবং মেলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে হবে fairconvener.com ওয়েবসাইটে।


আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলায় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান স্টল নেওয়ার সুযোগ পাবে। এর মধ্যে রয়েছে—


এডুকেশন কনসালটেন্সি ও স্টুডেন্ট ভিসা এজেন্সি। দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ। আইইএলটিএস, স্পোকেন ইংলিশ ও ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের দোকান। ট্রাভেল ও এয়ার টিকিটিং এজেন্সি। ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ ও বিমা প্রতিষ্ঠান।

অটিজমে অবদান থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি ইয়াশা সোবহানের

অটিজমে অবদান থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট, আন্তর্জাতিক দুই স্বীকৃতি ইয়াশা সোবহানের


স্টাফ রিপোর্টার: অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, বিকাশ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দুটি আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান। তিনি ‘ক্লাস্টার অব অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ডক্টর অব ফিলোসফি ইন সোশ্যাল ওয়ার্কস (Honoris Causa)’ সম্মাননা পেয়েছেন।


সামাজিক কল্যাণে তার উদ্যোগ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে এ অর্জনকে দেখা হচ্ছে।


মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের দ্য রিটজ-কার্লটন হোটেলে আয়োজিত ‘ক্লাস্টার অব অ্যাচিভার্স-২০২৬’-এর ৪৩তম আসরে ইয়াশা সোবহানের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা পেশাজীবী ও কৃতী ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে এ আয়োজন করা হয়। সেখানে তার এই স্বীকৃতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।


বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও যেন শিক্ষা গ্রহণ, নিজেদের সক্ষমতা বিকাশ এবং সমাজে মর্যাদার সঙ্গে বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ পায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশন।


প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে ইয়াশা সোবহান অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ও অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, পরিচর্যা এবং সামগ্রিক বিকাশে কাজ করে যাচ্ছেন। শিশুদের ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও সম্ভাবনা বিকাশের পাশাপাশি তাদের জন্য উপযোগী ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সমাজে তাদের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।


ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগেও সক্রিয় ইয়াশা সোবহান সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান ও বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসা সম্প্রসারণ ও ব্র্যান্ড উন্নয়নের সঙ্গে সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টার প্রতিফলন।


অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অর্জিত এ দুই সম্মাননা তার সামাজিক উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও পরিচিত করেছে। পাশাপাশি শিশুদের বিকাশ, অধিকার ও সমাজে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয়ে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ

বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয়ে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ

স্পোর্টস রিপোর্টার: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবল প্রতিভা অন্বেষণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্ট। সোমবার বিকেলে ঢাকার এবিজি স্পোর্টস সিটির বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বর্ণিল উদ্বোধনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটির সূচনা হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা শেখ মোহাম্মদ আসলাম ও কায়সার হামিদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী, এবিজি স্পোর্টস সিটির উপদেষ্টা বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক ও মো. লিয়াকত হোসেন এবং প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র জিএম লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সোয়েব শফিক (অব.)।


এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বসুন্ধরা গ্রুপ এবং এবিজি স্পোর্টস সিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে মাঠে নামে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ম্যাচটি ঘিরে স্টেডিয়াম এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।


এবিজির উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের অন্যতম উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবলের বিকাশ ঘটানো, তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলা। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়াতেও এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।


তাঁদের প্রত্যাশা, এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের মাধ্যমে নতুন প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসবে। একই সঙ্গে এ প্রতিযোগিতা তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে এবং দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান বলেন, “এই আয়োজনকে আমরা আরও বৃহৎ পরিসরে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চাই। এবিজি স্পোর্টস সিটির মাঠের খেলোয়াড়েরা একদিন বিশ্বকাপ জিতবে—এমন সুযোগ ও পথ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”


জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা কায়সার হামিদ এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য এবিজি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমেই দেশের ফুটবলের জন্য সম্ভাবনাময় ও দক্ষ খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে, যারা দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করবে।”


জাতীয় দলের আরেক সাবেক তারকা শেখ মোহাম্মদ আসলাম এবিজির উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “এবিজির এই উদ্যোগটি সত্যিই অসাধারণ। আমি মনে করি, এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ দেশের ফুটবল ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হয়ে থাকবে।”

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬: আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটের মহোৎসব শুরু

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬: আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটের মহোৎসব শুরু

স্পোর্টস রিপোর্টার: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রিকেটে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রত্যাশা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান। উদ্বোধনী আয়োজনকে ঘিরে স্টেডিয়ামে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। জাতীয় দলের সাবেক দুই তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিক ও মোহাম্মদ আশরাফুলের উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয় আয়োজনের আকর্ষণ।


উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে মাঠে গড়ায় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ। শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে উদ্বোধনী লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতার শুরুতেই মাঠে তৈরি হয় প্রাণবন্ত আবহ।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি বুলবুল আহমেদ, বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী, এবিজি স্পোর্টস সিটির উপদেষ্টা বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক, মো. লিয়াকত হোসেন, মো. নাজমুল আলম ভূঁইয়া ও মাহবুবুর রহমান। এ ছাড়া টি স্পোর্টসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তাসভির উল ইসলাম এবং এবিজি স্পোর্টস সিটির সিনিয়র জিএম লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সোয়েব শফিক (অব.) অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বসুন্ধরা গ্রুপ ও এবিজি স্পোর্টস সিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি এবং প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। আয়োজকদের প্রত্যাশা, অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলো ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও উন্মাদনা সৃষ্টি করবে।


আয়োজনটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, তরুণ ক্রিকেটারদের নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ করে দেওয়া, নিয়মিত ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি জোরদার করা। একই সঙ্গে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেও এই প্রতিযোগিতা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রিকেটের বিকাশ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্রীড়াভিত্তিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় এখন নজর শিরোপার লড়াইয়ে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পারফরম্যান্সের দিকে।

ফ্রান্সের অস্থিরতা থেকে ইউরোপের বাজার, চাপে বাংলাদেশের পোশাক খাত

ফ্রান্সের অস্থিরতা থেকে ইউরোপের বাজার, চাপে বাংলাদেশের পোশাক খাত

বিশেষ প্রতিনিধি: ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, ইউরোপের ক্রেতাদের পোশাক কেনায় সতর্কতা এবং পণ্যের দাম কমানোর বাড়তি চাপ—এই তিন কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইউরোপের কোনো কোনো বাজারে রপ্তানি বাড়লেও সামগ্রিক চাহিদা ও বিক্রয়মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা রপ্তানি আয় এবং কারখানার মুনাফায় চাপ তৈরি করছে। এর প্রভাব পড়ছে উৎপাদন কার্যক্রম থেকে শুরু করে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও বাড়তি আয়ের সুযোগেও।


গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার সুইং অপারেটর রহিমা খাতুনের অভিজ্ঞতায় পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আগে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কাজ করে বাড়তি আয়ের সুযোগ ছিল। এখন অনেক দিন বিকেল ৫টার মধ্যেই কারখানা ছুটি হয়ে যাচ্ছে। কারখানায় এখন ওভারটাইম কম।


‘মালিকপক্ষ বলছে, ইউরোপে ক্রেতাদের অর্ডার কমে গেছে। আগে অতিরিক্ত কাজের আয় দিয়ে সংসারের খরচ চালাতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত। এখন বাজারসদাই ও পরিবারের অন্যান্য ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি চাকরি হারানোর ভয়ও বাড়ছে।’


রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে সব দেশে একই ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি।


এই সময়ে ফ্রান্সে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। দেশটিতে রপ্তানি আয় নেমে এসেছে ৪৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারে। অন্যদিকে স্পেনের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।


তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যানে ইউরোপের বাজারে রপ্তানির চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এ সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে প্রায় ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরোতে নেমেছে। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।


রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি পোশাকের গড় দামও কমেছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় রপ্তানিমূল্য কেজিপ্রতি ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরো হয়েছে। অর্থাৎ পণ্য রপ্তানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি প্রতি কেজি পোশাক বিক্রি থেকেও আগের তুলনায় কম আয় হচ্ছে।


ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশও কমেছে। আগে এই বাজারের মোট আমদানির ২১ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল বাংলাদেশের দখলে, যা কমে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।


ইউরোপে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ এবং খুচরা বাজারে বিক্রির অনিশ্চয়তা পোশাকের ক্রয়াদেশকে প্রভাবিত করছে। বিক্রি প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতাদের অবিক্রীত পণ্যের মজুদ বেড়ে যায়। তখন নতুন অর্ডার কমানো, পণ্য সরবরাহের সময় পিছিয়ে দেওয়া কিংবা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কম দামে পণ্য কেনার চেষ্টা করেন তাঁরা।


এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের জন্য উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, ক্রয়াদেশ অনুযায়ী কাঁচামাল সংগ্রহ, শ্রমিক নিয়োগ এবং উৎপাদন সক্ষমতা প্রস্তুত করতে কারখানাগুলোকে আগেই অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু উৎপাদন শুরুর পর ক্রয়াদেশ কমে গেলে কিংবা পণ্য গ্রহণের সময় পিছিয়ে গেলে সেই বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় আসে না।


অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে পণ্যের বিক্রয়মূল্য কমে যাওয়ার প্রভাব আরও তীব্র হয়। এতে কারখানার মুনাফা সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার ঝুঁকিও বাড়ে।


তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর থাকা অবস্থায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা নতুন উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় সদস্যদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বাজার সম্প্রসারণ ও পণ্যের বহুমুখীকরণে কাজ করছি, যাতে কোনো একটি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।’


ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ব্যবস্থা এবং ভোক্তাদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিক্ষোভ দীর্ঘস্থায়ী হলে দোকানপাটের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, পণ্য সরবরাহে বিলম্ব এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া কিংবা আগের অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের সময়সূচি পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।


তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিদ্যমান চাপকে শুধু ফ্রান্সের অস্থিরতার ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ভোক্তাদের ব্যয় করার সক্ষমতা, ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রির অবস্থা এবং পণ্যের মজুদও রপ্তানির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা নির্ভর করে ইউরোপের সামগ্রিক ভোগ, ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি, মজুদ ও ক্রয়াদেশের ওপর। তাই ফ্রান্সের পরিস্থিতি একা পুরো ইউরোপীয় বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে না। তবে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে নতুন ক্রয়াদেশ ও সরবরাহের সময়সূচিতে প্রভাব পড়তে পারে।’


তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের কারণে পরিবারগুলো পোশাকের মতো কিছু কেনাকাটা কমিয়ে দিতে পারে। এতে খুচরা বিক্রি দুর্বল হলে ব্র্যান্ডগুলো নতুন পণ্য কেনার বিষয়ে সতর্ক হবে। একই সঙ্গে কম দামে পণ্য সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লে বাংলাদেশের মতো সরবরাহকারী দেশগুলোকে আরও তীব্র দরকষাকষির মুখে পড়তে হতে পারে।’


পোশাকের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে পড়ে। উৎপাদনের চাপ কমলে শ্রমিকদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়। বিশেষ করে যেসব শ্রমিক ওভারটাইমের আয়ের ওপর নির্ভর করে সংসারের ব্যয় মেটান, তাঁদের জন্য এ পরিস্থিতি বাড়তি চাপ তৈরি করে।


দীর্ঘ সময় ধরে ক্রয়াদেশ কম থাকলে কারখানাগুলো নতুন শ্রমিক নিয়োগ সীমিত করা, কর্মঘণ্টা কমানো কিংবা উৎপাদন কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সব কারখানায় পরিস্থিতি এক রকম না হলেও ইউরোপের বাজারে চাহিদা দীর্ঘস্থায়ীভাবে দুর্বল থাকলে কর্মসংস্থান ও শ্রমিকদের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এ কারণে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু রপ্তানির পরিমাণ বা আয় বিবেচনা করলেই হবে না। রপ্তানিমূল্য, কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা, মুনাফা এবং শ্রমিকদের কর্মঘণ্টার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।


বর্তমান পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারকদের স্বল্পমেয়াদে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, ক্রয়াদেশের পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং পণ্য সরবরাহের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে উৎপাদন পরিকল্পনা সাজাতে হবে। একই সঙ্গে কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে ক্রয়াদেশে পরিবর্তন এলেও আর্থিক ক্ষতি সীমিত রাখা যায়।


দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপের নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কম দামে পণ্য সরবরাহের প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে তুলনামূলক বেশি মূল্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।


ফ্রান্সের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশটির বাজারে সাময়িক অনিশ্চয়তা কমতে পারে। তবে ইউরোপজুড়ে ক্রেতাদের ব্যয় সংকোচন, পোশাকের গড় দাম কমে যাওয়া এবং সরবরাহকারীদের ওপর মূল্যছাড়ের চাপ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের চ্যালেঞ্জ সহজে কাটবে না।


তাই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সামনে এখন প্রধান লক্ষ্য শুধু বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি ধরে রাখা নয়; বরং নতুন বাজার তৈরি, পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা জোরদার করা। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় ও শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।