বিভিন্ন সরকারের সময় সিলেট বিভাগের একাধিক নেত্রী সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হয়ে জাতীয় সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এবার সিলেট বিভাগে বিএনপির ভূমিধস জয়ের পর নারী নেত্রীদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। রাজনৈতিক সচেতন মহলের ধারণা আগামী জাতীয় সংসদে সিলেট বিভাগ থেকে অন্তত দুইজন নেত্রী সংরক্ষিত আসন থেকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। যারা সংসদে গিয়ে সিলেটের পিছিয়ে পড়া নারী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।
সিলেটে এখন পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হওয়ার দৌঁড়ে যাদের নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে তারা হলেন- মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাম্মী আকতার, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও মহিলা দালের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব প্রয়াত আবুল হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ে সাবিনা খান।
এর মধ্যে শাম্মী আক্তার গেল বিএনপি সরকারের আমলে সংরক্ষিত আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ থেকে তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এছাড়াও ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী সিলেট-৫, সৈয়দা আদিবা হোসেন ও সাবিনা খান সিলেট-৬ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনকালীন সময়ে তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিলেটের রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ আসনে দলীয় প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের পক্ষে নারীদের নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে দেখা গেছে। এডভোকেট রোকসান বেগম শাহনাজ সিলেট সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রের পাশাপাশি রাজপথের ‘জাদরেল’ নেত্রী ছিলেন। গত সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে প্রার্থী হওয়ায় তিনি দল থেকে বহিস্কৃত হন। পরে গত সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে আবার দলে ফিরিয়ে নেয় বিএনপি।
