বিশিষ্ট লেখক-গবেষক দেওয়ান কাইউম এর তথ্যভিত্তিক বিষয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস “একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি” এই প্রতিপাদ্যে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক দেওয়ান কাইউমের তথ্যভিত্তিক বিষয়ে আলোচনা। ১৯৫২ সনে মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে যে সমস্ত বীর বাঙালি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষাকল্পে তাদের আত্মত্যাগ ও বীরচিত ভূমিকা রেখেছেন, তা কখনই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। মাতৃভাষা দিবস বা শহীদ দিবসের গুরুত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ১৯৭১ সনের মুক্তিযুদ্ধে একই মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হয়। আর তাই প্রতিপাদ্যের লেখকের ধারণা, বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামে অত্যাচারী পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন বিয়োগ করলে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিশেষ কোনো গুরুত্ব থাকে না।

তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে অমর একুশের গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি” এই বিখ্যাত ঐতিহাসিক গানটির লেখক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর সাহচর্যে দীর্ঘদিন ছিলেন। সে কারণে তিনি বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনাবলি স্বচক্ষে দেখেছেন। উল্লেখিত বিষয়ে লেখা বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যেমন—লন্ডনে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জনমত, সাপ্তাহিক নতুন দিন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত দৈনিক ঠিকানা, ভারত থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকাল ইত্যাদি।

শ্রদ্ধেয় গাফ্ফার চৌধুরীর সহযোগিতায় দেওয়ান কাইউম রাজনৈতিক, সামাজিক এবং নানা বিষয়ের উপর প্রচুর লেখালেখি করেন এবং লেখাগুলি পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। দেওয়ান কাইউমের লেখা একটি প্রবন্ধে হবিগঞ্জ জেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সামাজিক সংগঠক এবং ভাষাসৈনিকদের নাম পাওয়া যায়। ভাষা আন্দোলন উপলক্ষে সারাদেশে যাদেরকে নিয়ে জনমত গঠন করা হয়, তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাই। যথাক্রমে—

১। বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক দেওয়ান গোলাম মর্তুজা, স্নানঘাট, বাহুবল।

২। অ্যাডভোকেট দেওয়ান গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী, স্নানঘাট, বাহুবল, দেওয়ান বাড়ি।

৩। স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত নবীগঞ্জ-বাহুবলের সাবেক সংসদ সদস্য কমান্ডার মানিক চৌধুরী।

৪। সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজী, নবীগঞ্জ।

৫। স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ. এম. এস. কিবরিয়া।

৬। একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী।

৭। দেওয়ান মুয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরী, পানিউমদা, নবীগঞ্জ।

৮। কমরেড বারীন দত্ত, স্বজনগ্রাম, লাখাই।

৯। কমরেড লালমোহন রায়, খাগাউড়া, বাহুবল।

১০। অ্যাডভোকেট চৌধুরী আব্দুল হাই, হবিগঞ্জ সদর।

১১। দেওয়ান আহমদ রফি চৌধুরী, পানিউমদা, নবীগঞ্জ।

১২। দেওয়ান আহমদ কবির চৌধুরী, পানিউমদা, নবীগঞ্জ।

১৩। দেওয়ান আহমদ শফি চৌধুরী, পানিউমদা, নবীগঞ্জসহ আরও অনেকে।

সূত্র: ভাষা সংগ্রামীদের কথা বৃহত্তর সিলেট, ভাষা আন্দোলনে হবিগঞ্জ, ভাষা আন্দোলনে সিলেটের অবদান এবং বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংগৃহীত।

দেওয়ান কাইয়ূম, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক।

প্রেরক: ফজলুল হক, সেক্রেটারি জেনারেল, স্বাধীনতা ফাউন্ডেশন ও প্রবাস ফাউন্ডেশন


শেয়ার করুন